নিউইয়র্ক সিনেট ও অ্যাসেম্বলিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৬ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৮

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে। গত ২৪ মার্চ মঙ্গলবার প্রবাসের আমব্রেলা সংগঠন খ্যাত বাংলাদেশ সোসাইটি ইন্কের উদ্যোগে নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনিতে ক্যাপিটাল বিল্ডিং ও লেজিসলেটিভ বিল্ডিংয়ে এই আয়োজন করা হয়। এদিকে, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের রেজুলেশন সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। ওই রেজুলেশন দুটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস স্থান পায়।
জানা গেছে, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ (ব্রঙ্কস) থেকে নির্বাচিত অ্যাসেম্বলি সদস্য কারিনা রেইস, জেনিফার রাজকুমার, ডেভিড ওয়েপ্রিন, গ্রেস লি ও নাদের সায়েগ এ-সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করেন। নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন ল্যু ও নাথালিয়া ফার্নান্দেজ এ আয়োজনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষ ছিলেন।
স্টেট অ্যাসেম্বলিতে গৃহীত পৃথক রেজল্যুশনে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়। রেজল্যুশনে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট, স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদান, বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার অবদান স্বীকার করে তাদের কৃতিত্বের কথা উল্লেখ করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটিতে ৮০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি বসবাস করছেন। আমেরিকার অর্থনীতি বিনির্মাণে তাদের ভূমিকা অনন্য। এ সময় উভয় কক্ষের জনপ্রতিনিধিরা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযথ সম্মান নিবেদন করেন। স্টেট সিনেটর ও অ্যাসেম্বলি মেম্বাররা এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানেরও উচ্ছ্বসিত প্রসংশা করেন।

উদযাপন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দীন দেওয়ান, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুলসহ সোসাইটির অন্যান্য কর্মকর্তা ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন
নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ডে’। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ২৩ মার্চ আলবেনিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি ছিল ১০ম বারের মতো উদযাপন।সকালে ব্রঙ্কস থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা আলবেনিতে পৌঁছে সিনেটর লুইস সেপুলভেদা ও ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজের সঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পরে সিনেট ভবনে ফটোসেশন ও মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিনেটর লুইস সেপুলভেদা, ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজ, জন ল্যু, জেসিকা রামোস, রবার্ট জ্যাকসনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়াকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। এসময় বিভিন্ন জনকে সম্মাননা প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। জাতীয় সঙ্গীতসহ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস-বাফা’র শিল্পীরা।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে ইভেন্ট কমিটির আহ্বায়ক মো. শামিম মিয়ার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আবদুস শহীদ, চেয়ারম্যান জুনেদ আহমেদ চৌধুরী, কো-চেয়ারম্যান রোকন হাকীম ও সামাদ মিয়া জাকারিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক শামিম আহমেদ, প্রধান সমন্বয়কারী আবদুর রহিম বাদশা, কমিটির মুখপাত্র ইমরান শাহ রন, সদস্য সচিব এ ইসলাম মামুন, যুগ্ম সদস্য সচিব রেজা আব্দুল্লাহ, উপদেষ্টা সাখাওয়াত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর আহমেদ, এডভোকেট রেদওয়ানা রাজ্জাক ও সরাফত আলী পাটোয়ারী মাস্টার, সমন্বয়কারী নুরুল ইসলাম মিলন ও মুনতাসিম বিল্লাহ তুষার, সদস্য জামাল আহমদ, সাদিকুর রহমান প্রমুখ। বিকেলে সিনেট অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ ডে’ সংক্রান্ত রেজুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এসময় সিনেট গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।উল্লেখ্য, ২০১২ সালে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে প্রথম ‘বাংলাদেশ ডে’ রেজুলেশন গৃহীত হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।