প্রথমবার সরকারি অনুদান পেল বাংলাদেশ সোসাইটি

উৎসবমুখর অনুষ্ঠিত হল ইফতার ও ক্বেরাত প্রতিযোগিতা
ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩২

প্রবাসীদের আমব্রেলা সংগঠন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটি প্রথমবারের মতো সরকারি অনুদান পেয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি থেকে ২০ হাজার ডলারের অনুদান চেক গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ ৫০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এটাই সংগঠনটির প্রথম সরকারি অনুদান।
গত ১ মার্চ রোববার সোসাইটি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে কুইন্স থেকে নির্বাচিত স্টেট অ্যাসেম্বলিমেম্বার জেনিফার রাজকুমার আনুষ্ঠানিকভাবে এই চেক হস্তান্তর করেন। বিপুল করতালির মধ্য দিয়ে চেক হস্তান্তরের সময় নিউইয়র্ক স্টেট পার্লামেন্টে প্রথম দক্ষিণ এশীয় নারী হিসেবে নির্বাচিত জেনিফার রাজকুমার প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রশংসা করে বলেন, বিশ্বের রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশিদের সর্ববৃহৎ সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ সোসাইটি বরাবরই কল্যাণমূলক কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই তিনি স্টেট অ্যাসেম্বলি থেকে এই উল্লেখযোগ্য অনুদান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই আমেরিকান আইনপ্রণেতা সংগঠনের সকল কর্মকর্তাকে ধন্যবাদ জানান।
তার বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নাম উল্লেখ করেন। এ সময় নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের সদস্য জন ল্যু মঞ্চে এসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানান কুইন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাট-লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী।
কুইন্সের জয়া পার্টি হলে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। সর্বস্তরের প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিবর্গের বিপুল সমাগম ঘটে। চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে হোস্ট সংগঠনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, আবাসন ব্যবসায়ী ও সমাজকর্মী নুরুল আজিম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তোফায়েল চৌধুরী লিটন, স্টেট অ্যাসেম্বলির আসন্ন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী জে মোল্লা সানী, মো. শামসুল হকসহ আরও অনেকে। এটি ছিল নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার আয়োজনের প্রথম দিনের কর্মসূচি।


অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রবাস প্রজন্মের অংশগ্রহণে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় এবং বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ক্বেরাত প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দেন জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের ইমাম মাওলানা আবু জাফর বেগ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাওলানা শহীদুল্লাহ। বিভিন্ন বয়সী নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণে ক্বেরাত প্রতিযোগিতা ছিল বাংলাদেশ সোসাইটির একটি প্রশংসিত উদ্যোগ।
সমগ্র ইফতার মাহফিল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক মো. কামরুজ্জামান কামরুল এবং সদস্য-সচিব অনিক রাজ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় কার্যকরী কমিটির সদস্য জাহাঙ্গির শহীদ সোহরাওয়ার্দী সকলকে আগামী ৯ মার্চ জ্যামাইকায় ইকরা পার্টি হলে, ১১ মার্চ ব্রঙ্কসে গোল্ডেন প্যালেসে এবং ১৩ মার্চ ব্রুকলিনে রাধুনি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সপরিবারে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান।
দোয়া ও ইফতার মাহফিল সফলভাবে সম্পন্ন করতে মো. কামরুজ্জামান কামরুলকে আহ্বায়ক, মোহাম্মদ হাসান জিলানীকে যুগ্ম আহ্বায়ক, অনিক রাজকে সদস্য-সচিব, আবুল কাশেম চৌধুরীকে যুগ্ম সদস্য-সচিব, ডিউক খানকে প্রধান সমন্বয়কারী এবং হাসান খানকে সমন্বয়কারী করে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়।
ইফতার মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য আজিমুর রহমান বোরহান, আহসান হাবিব, কাজী আজহারুল হক মিলন, আক্তার হোসেন, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ডা. ইনামুল হক, আতোয়ারুল আলম, নাঈম টুটুল, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী, মাইনুল উদ্দিন মাহবুব, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াদুদ ভুইয়া, সাবেক সভাপতি আব্দুর রব মিয়া, আজমল হোসেন কুনু, মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, ফারুক হোসেন মজুমদার, বাবুল চৌধুরী, মোহাম্মদ জামান তপন, সাইফুল ইসলাম, খন্দকার ফরহাদ, সরওয়ার খান বাবু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার, সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওশাদ হোসেন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, আলী ইমাম শিকদার, কম্যুনিটি এক্টিভিস্ট আব্দুল খালেক, মূলধারার রাজনীতিবিদ এন মজুমদার, একেএম রফিকুল ইসলাম ডালিম, নাঈমা খান, সোহেল গাজী, আমিন খান জাকির, মামুন মিয়াজি, মোবারক হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলম, গোলাপগঞ্জ সোসাইটির সভাপতি এবাদ চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নূরুল আজিম, সাবেক কর্মকর্তা সৈয়দ এম কে জামান, বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভুইয়া, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূইয়া রুমি, প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক হাসান জিলানী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোস্তফা অনিক রাজ, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জামিল আনসারি, কার্যকরি সদস্য এ বি সিদ্দিক পাটোয়ারি, সাবেক কর্মকর্তা কাজী তোফায়েল ইসলাম, জাহাঙ্গীর সরওয়ার্দি, সদস্য সাবেক সহ সভাপতি ওয়াসি চৌধুরী, আবুল কাশেম চৌধুরী, প্রধান সমন্বয়কারী ডিউক খান, হাসান খান, মোহাম্মদ আক্তার বাবুল, কম্যুনিটি এক্টিভিস্ট আব্দুস শহীদ, ওয়াহেদ কাজী এলিন, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের একাংশের সভাপতি বদরুল হোসেন খান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সভাপতি ইউনূস সরকার, নবাবগঞ্জ এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম এন হায়দার মুকুট, সৈয়দ এনায়েত আলী, আব্দুর রহমান বাবু, সেলিম ইব্রাহিম, নার্গিস আহমেদ, রায়হান তাজ, প্রমি তাজ, নীরা রাব্বানী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিলাল চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকিব হোসাইন, মিসবাহ আহমদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী তোফায়েল চৌধুরী লিটন, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, সাবেক কর্মকর্তা কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, নওশাদ হোসেন, শাহ শহীদুল হক, মিলন মোল্লা, হেলাল মিয়া, কাজী আজিজুল হক, রুমানা আহমেদ, সাবেক কর্মকর্তা সালামত উল্যাহ প্রমুখ।