নিউইয়র্কে কোভিড অনুদান লুটে জড়িত ৯ বাংলাদেশি, দোষ স্বীকার করে অর্থ ফেরত

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:২৫


কোভিড-১৯ মহামারির সময় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য নির্ধারিত নিউইয়র্কে স্টেটের ত্রাণ তহবিল আত্মসাতের অভিযোগে কুইন্স ও লং আইল্যান্ডের ৯ জন আসামি দোষ স্বীকার করেছেন। তারা সবাই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। 
আসামিরা হলেন: কুইন্সের এস্টোরিয়ার বাসিন্দা মাহবুব মালিক (৪১),  জ্যামাইকার তোফায়েল আহমেদ (৫০), এলমহার্স্টের ইউসুফ এমডি (৪৫),  জ্যাকসন হাইটসের মোহাম্মদ চৌধুরী ওরফে খোকন আশরাফ (৬৮), লং আইল্যান্ডের নাসাউ কাউন্টির নিউ হাইড পার্কের নাদিম শেখ (৫৬),  জ্যামাইকার জাকির চৌধুরী (৫৯), জ্যামাইকা হিলসের মোহাম্মদ খান (৪৯), লং আইল্যান্ডের নাসাউ কাউন্টির ফার্মিডেলের তানভীর মিলন (৫৫) এবং সাফোক কাউন্টির জুনেদ খান (৫৬)। তাদের মধ্যে মাহবুব মালিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিন বছরের শর্তসাপেক্ষ মুক্তি পেয়েছেন। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি  মেলিন্ডা কাটজ এবং নিউইয়র্ক স্টেট ইনস্পেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা কোভিড-১৯ মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত ছোট ব্যবসাগুলোর সহায়তার জন্য চালু হওয়া নিউইয়র্ক স্টেটের ‘এম্পায়ার ডেভেলপমেন্ট প্যানডেমিক স্মল বিজনেস রিকভারি গ্র্যান্ট প্রোগ্রাম’-এর আওতায় একাধিক ভুয়া আবেদন জমা দেন। আদালতে তারা চতুর্থ ডিগ্রির গ্র্যান্ড লারসেনি ও পেটিট লারসেনির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন।
২০২৫ সালের মে থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন তারিখে কুইন্স সুপ্রিম কোর্টে দোষ স্বীকারের পর আদালত তাদের মোট ১০ লাখ ৯১ হাজার ৭২০ ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার নিউইয়র্ক স্টেটেকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা ক্যাটজ এক বিবৃতিতে বলেন, মহামারির মতো নজিরবিহীন সংকটকালে সংগ্রামরত ব্যবসাগুলোর জন্য বরাদ্দ তহবিল আত্মসাৎ করা গুরুতর অপরাধ। তিনি জানান, দোষ স্বীকারের মাধ্যমে আসামিরা এখন ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।
ইনস্পেক্টর জেনারেল লুসি ল্যাং বলেন, দুর্যোগকালীন ত্রাণ তহবিল ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করা অপরাধ এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী। তিনি তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।
তদন্তে জানা যায়, ২০২০ সালের জুনের দিকে শুরু করে আসামিরা একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে অনুদানের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে অর্থ ব্যবসার বেতন, ভাড়া/মর্টগেজ, ইউটিলিটি বিল ও সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য প্রয়োজন। তবে তদন্তকারীরা দেখতে পান, অনুদানের অর্থ পাওয়ার পরপরই অধিকাংশ টাকা ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়।
ব্যাংক হিসাব ও ট্যাক্স রিটার্ন পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুদান পাওয়ার আগে কোনো কার্যকর ব্যবসায়িক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জমা দেওয়া ট্যাক্স নথিতে উল্লেখিত আয়-ব্যয়ের তথ্যও ব্যাংক রেকর্ডে প্রতিফলিত হয়নি।
নিউইয়র্ক স্টেট ইনস্পেক্টর জেনারেলের দপ্তর প্রথমে তদন্ত শুরু করে এবং মে ২০২৪-এ মামলাটি কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির দপ্তরে প্রেরণ করে। অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি জানার পর আসামিরা ৬ থেকে ৯ মে ২০২৫-এর মধ্যে পৃথকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। মামলাটি কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির ফ্রডস ব্যুরোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় জড়িত জাকির চৌধুরীর নাম ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।  তার নাম প্রকাশ না করে যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের নেতা পরিচয় তুলে ধরে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে তুলোধুনা ধরেছেন। নিউইয়র্কের সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও বিশ্ব পর্যটক হাবিব রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের এই নেতাকে ইঙ্গিত করে লিখেছেন-  কোভিডের অর্থ আত্মসাৎকারী ৭ জনের একজন যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা । দোষ স্বীকারের পর তিনি গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পরিশোধ করেছেন ১ লাখ ডলার। ৭৫ হাজার ডলার পরিশোধ করেছেন গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর।  বাকী ৭৫ হাজার শোধ করবেন  আগামী ২৩ মার্চ।