
নিউইয়কের্র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ভালো’ ঈদ উপলক্ষে প্রায় হাজার মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে । গত ১৪ মার্চ শনিবার কুইন্সের জ্যামাইকা হিলসাইডে সিটির বিভিন্ন এলাকার নিম্নআয়ের পরিবার ও অসহায় মানুষদের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। সাথে ছিলেন সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানি উইনিলয়ামস, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন ল্যু, মেয়রের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশারসহ বিভিন্ন কমিউনিটি নেতারা।আয়োজকরা জানান, ঈদকে সামনে রেখে কমিউনিটির দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য খাদ্য প্যাকেজ প্রস্তুত করা হয়, যার মধ্যে ছিল সেমাই, চাল, ডাল, তেল, চিনি, মসলা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, রমজান মাস মানুষকে সহমর্মিতা, সহানুভূতি এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, “রমজান আমাদের শেখায় কীভাবে আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারি। নিউইয়র্ক সিটিতে এমন অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে যারা নীরবে মানুষের পাশে কাজ করে যাচ্ছে। ‘ভালো’ সেই সংগঠনগুলোর একটি।তিনি আরও বলেন, শহরের অনেক পরিবার এখনো খাদ্য সংকটে ভুগছে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ তাদের জন্য বড় সহায়তা। মেয়রের মতে, কমিউনিটির সংগঠনগুলো যদি একসঙ্গে এগিয়ে আসে, তাহলে অনেক মানুষের জীবনেই ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে মেয়রের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার বলেন, ঈদ মুসলমানদের জন্য আনন্দের উৎসব। আর সেই আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করার মধ্যেই উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত। তিনি বলেন, “ঈদ মানেই আনন্দ। ‘ভালো’ যে কাজটি করছে, সেটি মূলত মানুষের মধ্যে সেই আনন্দ ছড়িয়ে দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। তারা মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।” আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবীরা কয়েকদিন ধরে খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ, প্যাকেট তৈরি এবং বিতরণের কাজ করেছেন। বিভিন্ন ব্যবসায়ী, দাতা ও কমিউনিটির সদস্যদের সহযোগিতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।খাদ্য সহায়তা নিতে আসা তাহমিনা আক্তার জানান, ঈদের আগে এই সহায়তা তাদের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। তিনি আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রবাসে বসবাসরত মানুষের জন্য এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু প্রয়োজনীয় সহায়তাই দেয় না, বরং কমিউনিটির মধ্যে ঐক্য ও সহমর্মিতার বন্ধনও আরও দৃঢ় করে।সিটিবাসীরা আশা প্রকাশ করেন, ভালো সংগঠনের প্রধান নির্বাহী শাহরিয়ার রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতেও কমিউনিটির মানুষের জন্য এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন।