চিটাগাং এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকাকে ঘিরে অপপ্রচারের জবাব দিলো বর্তমান কমিটি

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১০ জুন ২০২৬, ১৫:৫৯

চিটাগাং এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইনক ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান ‘মিথ্যাচার, গোয়েবলসীয় প্রোপাগান্ডা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার’ বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলন করেছে সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্ব। সোমবার (৮ জুন) জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে আয়োজিত  সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের ইতিহাস, নির্বাচন, চলমান মামলা, ভবন দখল, ভাড়া বকেয়া, দাফন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সংগঠনের নেতারা প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যম সমাজের সত্য তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই চট্টগ্রাম সমিতিকে ঘিরে চলমান বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের জবাবে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরতেই এ আয়োজন।
এ সময় তারা সমিতির প্রয়াত নেতাদের স্মরণ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন  দীন এম রানা , সৈয়দ এম রেজা, আব্দুল হয় জিয়া, হেলাল উদ্দিন তসলিম, কামাল উদ্দিন, অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, আসাদুল্লাহ হিল গালিব, অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, ডাক্তার আনোয়ার মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউল আজম শফিসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, প্রায় ৩৭ বছরের পুরোনো চিটাগাং এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা ইনক নানা চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে আজকের অবস্থানে এসেছে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় তৎকালীন সভাপতি আব্দুল হাই জিয়ার মৃত্যু সংগঠনটিকে বড় সংকটে ফেলে। পরবর্তীতে সকল পক্ষের সমন্বয়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করা হয় এবং দীর্ঘ ১৭ মাস পর নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনের পথ সুগম হয়।
তাদের দাবি, প্রথমদিকে একটি পক্ষ একতরফাভাবে নির্বাচন কমিশন গঠনের চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে সবার সম্মতিতে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। নির্বাচন পরিচালনার জন্য স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ইউনাইটেড ইলেকশন সার্ভিস’কে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ২০ অক্টোবর ব্রুকলিন, কুইন্স, নিউজার্সি ও কানেক্টিকাটের চারটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
বর্তমান কমিটির নেতারা বলেন, নির্বাচনে দুটি প্যানেলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় এবং সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী অংশ নেন। ভোটগ্রহণ শেষে কয়েকটি পদের ভোটের ব্যবধান চ্যালেঞ্জড ভোটের সংখ্যার কাছাকাছি হওয়ায় নির্বাচন কমিশন তাৎক্ষণিক পূর্ণাঙ্গ ফল ঘোষণা থেকে বিরত থাকে। পরে ছয়টি চ্যালেঞ্জড ভোট যাচাই-বাছাই শেষে ইউনাইটেড ইলেকশন সার্ভিসের সরবরাহ করা ফলাফলের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন সর্বসম্মতিক্রমে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করে।
তাদের অভিযোগ, ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচনে পরাজিত সভাপতি পদপ্রার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেন এবং নির্বাচন কমিশনসহ চট্টগ্রামবাসী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরে জনরোষের মুখে তিনি ওইসব পোস্ট সরিয়ে নেন বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সংগঠনের সংবিধানের ১৫.২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ফল ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের বিধান রয়েছে। সে অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর  শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। তাহের-আরিফ পরিষদের সদস্যরা শপথ নিলেও অপর প্যানেলের নির্বাচিতরা শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। পরবর্তীতে সাংগঠনিক প্রয়োজন বিবেচনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিজয়ী ঘোষণা করে শূন্য পদ পূরণ করা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত হবার পর থেকেই ১৯ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিরলসভাবে চট্টগ্রাম সমিতিকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।