অভিবাসীদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের জরিমানা আরোপ আটকে দিল আদালত

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৩

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার চূড়ান্ত নির্দেশ পাওয়ার পরও দেশ না ছাড়ার দায়ে অভিবাসীদের ওপর ১৮ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা আরোপের ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন বোস্টনের একটি ফেডারেল আদালত। সোমবার দেওয়া রায়ে মার্কিন ডিসট্রিক্ট জাজ জর্জ ও'টুল বলেছেন, এই জরিমানা আরোপের প্রক্রিয়া ছিল বেআইনি।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, জরিমানার নোটিশ পাওয়া অভিবাসীরা এমনিতেই অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় থাকেন। এই অবস্থায় তাঁদের ওপর বিপুল অঙ্কের জরিমানা চাপলে তাঁরা দেউলিয়া হয়ে যেতে পারেন। মজুরি জব্দ, গাড়ি-বাড়ি হারানো এবং সরকারের পক্ষ থেকে দেনা আদায়ের মামলার মতো পরিণতির আশঙ্কাও তিনি তুলে ধরেন। বিচারকের মতে, মামলায় শেষ পর্যন্ত জিতলেও জরিমানার নোটিশ বাতিল করে বাদীদের ক্ষতি পুরোপুরি পূরণ করা কিংবা আগের অবস্থায় ফেরানো সম্ভব হতো না।
মামলাটি করেছিলেন একদল অভিবাসী নারী, যাঁরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এবং এর প্রধান মার্কওয়েন মুলিনের বিরুদ্ধে আদালতে যান। রায়ে বিচারক তাঁদের জীবনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। এই নারীরা স্বল্প মজুরিতে কাজ করেন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার হুমকি থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। বাদীদের একজন, যাঁকে রায়ে ‘ন্যান্সি এম.’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁর ওপর ১৮ লাখ ডলারের বেশি জরিমানা করা হয়েছিল। দুটি কাজ মিলিয়ে সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টার বেশি পরিশ্রম করেন এই শ্রমজীবী নারী। জরিমানার কারণে তিনি তীব্র উদ্বেগে ভুগছেন, যা তাঁর ঘুম, খাওয়াদাওয়া ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকে ব্যাহত করছে বলে রায়ে বলা হয়েছে।
আইনি দিক থেকেও জরিমানার এই প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন বিচারক। তাঁর পর্যবেক্ষণ, কোনো অভিবাসীর কোন আচরণের কারণে জরিমানা প্রযোজ্য হলো, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না জানিয়ে প্রশাসন প্রশাসনিক কার্যবিধি আইন (অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসিডিউর অ্যাক্ট) লঙ্ঘন করেছে। অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের দীর্ঘদিন অব্যবহৃত একটি ধারা বর্তমান প্রশাসন নতুন করে সক্রিয় করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিল ক্লিনটনের মনোনীত এই বিচারক ২০১৫ সালে বোস্টন ম্যারাথন বোমা হামলার দোষী জোখার সারনায়েভের বিচারও পরিচালনা করেছিলেন। ডিএইচএস জুলাই মাসে জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর থেকে দেশ ছাড়তে অস্বীকারকারী অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ওপর তারা ৮ হাজার ৪০০ কোটি ডলারেরও বেশি দেওয়ানি জরিমানা আরোপ করেছে। অভিবাসন আইনের অধীনে আর্থিক জরিমানার পথে হাঁটার চেষ্টা অবশ্য ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই শুরু হয়েছিল।
এই জরিমানা নীতির বিরুদ্ধে কংগ্রেসেও আপত্তি উঠেছে। জুলাই মাসে ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যালেক্স পাডিলা ও ডিক ডারবিন ডিএইচএস এবং বিচার বিভাগের প্রতি আইনের এই ধারার ‘অনুচিত প্রয়োগ’ স্থগিত করার আহ্বান জানান। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এর শিকার হচ্ছেন আইন মেনে চলা অভিবাসীরা। অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিতাড়ন ২০১৫ সালে প্রথম প্রচারণা শুরুর সময় থেকেই ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান ইস্যু। দ্বিতীয় মেয়াদে আরও কঠোর নির্বাসননীতি নেওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভও হয়েছে।