যুক্তরাষ্ট্রে কর্মজীবী বাবা-মায়ের তহবিল থেকে গৃহে থাকা অভিভাবকদের ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৩৬

ট্রাম্প প্রশাসন বিবাহিত দম্পতিদের মধ্যে একজন অভিভাবক ঘরে থেকে সন্তান লালন-পালন করলে তাকে শিশু যত্ন ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা এই পরিকল্পনায় কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য নির্ধারিত ফেডারেল তহবিল ব্যবহার করা হবে।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের শিশু যত্ন ও উন্নয়ন তহবিল থেকে এই অর্থ দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মজীবী, শিক্ষার্থী বা প্রশিক্ষণরত অভিভাবকদের সন্তানদের যত্নের খরচে সহায়তা করতে এই তহবিল ব্যবহার করা হয়।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা বিবাহিত দম্পতিদের একজন কাজ করলে এবং অন্যজন সন্তান দেখাশোনার জন্য ঘরে থাকলে তারা ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্য হবেন। কর্মরত স্বামী বা স্ত্রীকে সপ্তাহে অন্তত ৩৫ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। প্রতি শিশুর জন্য বছরে গড়ে প্রায় ৯ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হয়।
বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার পরিবার এই ভর্তুকি পাচ্ছে। তাদের প্রায় ৮০ শতাংশ পরিবারে একক কর্মজীবী অভিভাবক রয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই মা। তহবিলটি বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ শিশুর যত্নের খরচে সহায়তা করছে।
পরিবারনীতি বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, তহবিলের পরিমাণ না বাড়িয়ে নতুন শ্রেণির অভিভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে কর্মজীবী ও বিশেষ করে একক অভিভাবকদের জন্য ভর্তুকি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এতে শিশু যত্নকেন্দ্রগুলোর আয় কমে গিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধও হয়ে যেতে পারে। দেশজুড়ে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার শিশু যত্নকেন্দ্র এই ভর্তুকির অর্থের ওপর নির্ভরশীল।
প্রস্তাবিত নিয়মে অবিবাহিত দম্পতিদের ক্ষেত্রে একজন ঘরে থেকে সন্তান দেখাশোনা করলে তারা এই সুবিধা পাবেন না। কর্মহীন একক অভিভাবকরাও নতুন নিয়মের আওতায় আসবেন না।
তবে পরিকল্পনাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হোয়াইট হাউসের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি জনসাধারণের মতামতের জন্য প্রকাশ করা হবে। চূড়ান্ত হলে আগামী বছর থেকেই এটি কার্যকর হতে পারে।
পরিকল্পনাটি নিয়ে প্রশাসনের কিছু আইনজীবীও প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে শুধু বিবাহিত দম্পতিদের সুবিধা দেওয়ার বিষয়টির আইনগত বৈধতা এবং ব্যক্তিদের সরাসরি অর্থ দেওয়ায় প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।