তিন শিশুর মৃত্যু : লিন্ডসে ক্লান্সির বিচার শুরু হচ্ছে জুলাইয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৪ জুন ২০২৬, ১৪:০৫

ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারি শহরের মা লিন্ডসে ক্লান্সি তার তিন সন্তানকে হত্যা করেছিলেন "অত্যন্ত নৃশংসতা ও নিষ্ঠুরতার সাথে" — এই যুক্তি তুলে ধরেছেন সরকারপক্ষের আইনজীবীরা। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি। আজ তিন বছরেরও বেশি সময় পর এই মামলা আবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে — কারণ জুলাই মাসে শুরু হতে যাচ্ছে বিচার, এবং সরকারপক্ষ আদালতে নতুন প্রমাণ উপস্থাপনের অনুমতি চাইছেন।
লিন্ডসের স্বামী প্যাট্রিক ক্লান্সি সেদিন রাতে ৯১১ ডায়াল করে পুলিশকে ডেকেছিলেন। তিনি বাড়ির বেসমেন্টে খুঁজে পেয়েছিলেন তার তিন সন্তানকে — পাঁচ বছরের কোরা, তিন বছরের ডসন, এবং মাত্র আট মাস বয়সী ক্যালানকে। প্রতিটি শিশুর গলায় ছিল ব্যায়ামের রাবার ব্যান্ড। ফোনে ডিসপ্যাচারের সঙ্গে কথা বলতে বলতে তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, "সে বাচ্চাগুলোকে মেরে ফেলেছে!" পুলিশ নিচে নামার আগেই প্যাট্রিক নিজে সন্তানদের গলা থেকে ব্যান্ডগুলো সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন — কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।
সরকারপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাখিল করা কাগজে বলেছেন, প্রতিটি শিশুর গলা থেকে যে দ্রুততায় ব্যান্ড সরানো সম্ভব হয়েছিল, তা এই ধারণাকে নাকচ করে যে লিন্ডসে হয়তো ব্যান্ড গিঁট দিয়ে বেঁধে চলে গিয়েছিলেন। বরং প্রমাণ সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করছে যে তিনি নিজের হাতে প্রতিটি শিশুর গলায় চাপ দিয়েছিলেন — একে একে, তিনবার। এটাই হলো মামলার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক।
লিন্ডসে ক্লান্সি ছিলেন ৩৫ বছর বয়সী একজন প্রশিক্ষিত নার্স। তার আইনজীবীরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা এই হত্যার ঘটনা অস্বীকার করবেন না — বরং তাদের যুক্তি হবে যে লিন্ডসে সেই সময় মারাত্মক প্রসবোত্তর মানসিক রোগে ভুগছিলেন এবং চিকিৎসকরা তাকে ভুল ওষুধ দিয়েছিলেন, মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ দিয়েছিলেন। প্রতিরক্ষাপক্ষ জুলাইয়ের বিচারে "মানসিক অস্বাভাবিকতার কারণে নির্দোষ" — এই যুক্তিতেই লড়বেন।
লিন্ডসে এবং তার স্বামী প্যাট্রিক, দুজনেই আলাদাভাবে মামলা করেছেন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে — অভিযোগ করেছেন যে চিকিৎসকরা লিন্ডসের রোগ সঠিকভাবে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং ভুল চিকিৎসা দিয়েছেন।
এই মামলা আমেরিকার চিকিৎসা ব্যবস্থায় প্রসবোত্তর মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ভয়াবহ ঘাটতির দিকে আঙুল তুলছে। প্রতি বছর আমেরিকায় প্রায় ৬ লক্ষ নতুন মা প্রসবোত্তর বিষণ্নতা বা মানসিক রোগে ভোগেন — কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পান না অনেকেই। লিন্ডসের মামলা সেই প্রশ্নটাকেই আবার সামনে নিয়ে এসেছে: একজন মা যখন ভেতর থেকে ভেঙে পড়ছেন, তখন কি চিকিৎসা ব্যবস্থা তাকে ধরতে পারছে?
তিনটি শিশু আর নেই। একটি পরিবার চিরকালের জন্য ভেঙে গেছে। একজন মা হুইলচেয়ারে বসে আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন — সেই চোখে কী আছে, বিচারক বলবেন কিনা জানি না। কিন্তু প্রশ্নগুলো থেকে যাচ্ছে।