
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে প্রায় ৭১ লাখ মানুষ এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। একই দেশে স্থানান্তর আমেরিকান জীবন ধারার এক নিয়মিত অংশ। বিভিন্ন কারণে এ স্থানাতর ঘটে থাকে। বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই মানুষের জীবনযাপন, কাজের সুযোগ ও বসবাসের পরিবেশ নিয়ে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস চলছে।সদ্য প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আনুমানিক ৭১ লাখ মানুষ এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে স্থানান্তরিত হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ২৯ কোটি ৭০ লাখ মানুষ আগের ঠিকানাতেই বসবাস অব্যাহত রেখেছেন, আর প্রায় ২ কোটি ৯৯ লাখ মানুষ একই অঙ্গরাজ্যের ভেতরে নতুন স্থানে চলে গেছেন।
এই অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ফ্লোরিডা ও টেক্সাস সবচেয়ে বেশি মানুষের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম কর, উষ্ণ আবহাওয়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কিছুটা কম হওয়ায় এসব রাজ্য দীর্ঘদিন ধরেই আকর্ষণীয়। বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি বড় অংশও এই রাজ্যগুলোতে বসবাস করেন বা নতুন করে সেখানে যাচ্ছেন, বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডায় ব্যবসা, প্রযুক্তি ও সেবাখাতে কাজের সুযোগ বাড়ায়।
অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক ও ইলিনয়ের মতো রাজ্যগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পষ্ট—২০২৪ সালে সেখানে যত মানুষ নতুন এসেছে, তার চেয়ে প্রায় আড়াই লাখ বেশি মানুষ রাজ্যটি ছেড়ে গেছেন। উচ্চ ভাড়া, জীবনযাত্রার ব্যয়, কর এবং আবাসন সংকটকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব রাজ্যে বসবাসকারী অনেক বাংলাদেশিও খরচের চাপের কারণে তুলনামূলক সস্তা রাজ্যে যাওয়ার কথা ভাবছেন বা ইতোমধ্যে চলে গেছেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব রাজ্য থেকে বেশি মানুষ বেরিয়ে যাচ্ছে, সেগুলোই আবার যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য। ফলে সেখানে মানুষের আসা-যাওয়ার সংখ্যাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি। এর মানে এই নয় যে এসব রাজ্য জনশূন্য হয়ে পড়ছে। ক্যালিফোর্নিয়া এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রাজ্য, আর নিউইয়র্কও অর্থনীতি ও অভিবাসনের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেই রয়ে গেছে।
বাংলাদেশি পাঠকের দৃষ্টিকোণ থেকে এই তথ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণে—এগুলো ভবিষ্যতের অভিবাসন ধারা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও কমিউনিটি গঠনের ইঙ্গিত দেয়। কোন রাজ্যে মানুষ যাচ্ছে, কোন রাজ্য ছাড়ছে—এই প্রবণতা বুঝতে পারলে নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিরা কোথায় বসতি গড়বে, কোথায় সুযোগ বেশি—সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।