ইরানে দমন-পীড়নের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রে হাজারো মানুষের মিছিল

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৮


ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে মিছিল করেছেন হাজারও মানুষ। বিক্ষোভকারীদের ওপর ‘প্রাণঘাতী’ দমন-পীড়নের প্রতিবাদে রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইরানি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল লস অ্যাঞ্জেলেসে এই মিছিল করা হয়। একই দিনে নিউইয়র্কে কয়েক শ মানুষ প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন।
বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে ‘নতুন হলোকাস্ট’, ‘ঘটতে থাকা গণহত্যা’ও রাষ্ট্রীয় ‘সন্ত্রাস’র এর মতো অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভরত ৬৫ বছর বয়সী আইনজীবী আলি পারভানেহ বলেন, এভাবে গণহারে মানুষ হত্যা ভীষণভাবে মর্মান্তিক। অনেক বিক্ষোভকারীর মতো তিনিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, কিছু বিক্ষোভকারী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যার দাবিও তোলেন। খামেনি গত ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন।
গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে মিশ্র বার্তা দেন ট্রাম্প। প্রথমে তিনি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও পরে আবার বলেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেবে না- এমন আশ্বাসে তিনি সন্তুষ্ট।
ক্যালিফোর্নিয়ার এই শহরে অনেক বিক্ষোভকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ইরানের সাবেক শাহের ছেলে রেজা পাহলভির পক্ষে স্লোগান দেন। ১৯৭৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শাহের সন্তান রেজা পাহলভি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনে আছেন।
অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ক্ষোভ থেকে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়, তা দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটিকে ইরানি নেতৃত্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ৮ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আড়ালে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর দমন-পীড়নের পর সেই বিক্ষোভ স্তিমিত হয়ে আসে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই অভিযানের বর্ণনা দিয়েছে ‘গণহত্যা’ হিসেবে।

নরওয়েভিত্তিক সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস জানায়, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু যাচাই করেছে। এসব তথ্য তারা ইরানের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্বাধীন সূত্র থেকে সংগ্রহ করেছে।
তবে সংগঠনটি সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি ও ইরানি কর্তৃপক্ষও এখনো নিহতের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানায়নি।