
নেদারল্যান্ডসের লিডেন ইউনিভার্সিটির ‘সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি স্টাডিজ’ থেকে প্রকাশিত ‘লিডেন র্যাঙ্কিংয়ে প্রতিবেদনে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়। একাডেমিক প্রকাশনা বা গবেষণাপত্র প্রকাশের ওপর ভিত্তি করে এ বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংটি করা হয়।
শুক্রবার (১৬জানুয়ারি) প্রকাশিত র্যাঙ্কিংয়ে দেখা যায়, পরিমাণ এবং গুণগত মানের ওপর জোর দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলেছে তারা।
হার্ভার্ড সম্প্রতি এ র্যাংকিংয়ে তিন নম্বরে নেমে গেছে। বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটিগুলোর গবেষণা তহবিলে ব্যাপকভাবে হ্রাস করেন। ইউনিভার্সিটিগুলো বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার খরচ মেটাতে মূলত ফেডারেল সরকারের ওপর নির্ভরশীল। শিক্ষাক্ষেত্রে এ নিম্নগামীতা বহু আগে থেকেই শুরু হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পতনের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে বলে ধারণা করে হচ্ছে।
হার্ভার্ড এখনো কিছু বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ের শীর্ষে রয়েছে, তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ফেডারেল তহবিল সংকোচনে গবেষণা পরিমাণকে হুমকির মুখে ফেলছে।
২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র বা জার্নাল নিবন্ধের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। তখন শীর্ষ ১০-এর মধ্যে সাতটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি, যার এক নম্বরে ছিল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। চীনের শুধু ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি স্থান পেয়েছিল শীর্ষ ২৫-এ। তবে নতুন প্রকাশিত প্রতিবেদনের শীর্ষ ১০-এর মধ্যে আরও সাতটি চীনা ইউনিভার্সিটি রয়েছে।
হার্ভার্ড বিশ বছর আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি গবেষণা উৎপাদন করে। তা সত্ত্বেও এটি তিন নম্বরে নেমে গেছে। এটিই একমাত্র আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয় যা এখনো তালিকার শীর্ষের কাছাকাছি রয়েছে। তবে উচ্চ-উদ্ধৃত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার ক্ষেত্রে হার্ভার্ড লিডেন র্যাংকিংয়ে এখনো প্রথম। এছাড়াও কিছু র্যাঙ্কিংয়ে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এখনো শীর্ষে।
শীর্ষস্থানীয় যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমস্যা, গবেষণা উৎপাদন হ্রাস পাওয়া নয়। ২০০০-এর দশকের প্রথম দশকে শীর্ষ ১০-এ থাকা মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএলএ, জনস হপকিন্স, ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন-সিয়াটল, ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া এবং স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিগুলো বিশ বছর আগের তুলনায় এখন অনেক বেশি গবেষণা উৎপাদন করছে। কিন্তু চীনা ইউনিভার্সিটিগুলোর উৎপাদনের পরিমাণের হার অনেক বেড়েছে।
বিপরীতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো বৈশ্বিক র্যাংকিংগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তারা একে তাদের একাডেমিক দক্ষতা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পরিমাপক হিসেবে দেখছে। ঝেজিয়াং ইউনিভার্সিটি তাদের ওয়েব পেজে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তাদের র্যাঙ্কিং প্রদর্শন করে এবং ২০১৭ সালে যখন তারা প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক শীর্ষ ১০০-তে স্থান পায়, তাকে তাদের ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাঙ্কিংয়ের এ অবস্থান উদযাপন করেছে।
বিশ্বের অন্যতম সুপরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং তৈরিতে পরিচিত ব্রিটিশ সংস্থা ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’। তার প্রধান গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার ফিল ব্যাটি বলেন, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বৈশ্বিক আধিপত্যের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তন আসছে। এটি এক নতুন বিশ্বব্যবস্থা।
ব্যাটি বলেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার এবং সম্ভাব্য পতনের ঝুঁকি রয়েছে। আমি ‘পতন’ শব্দটি খুব সাবধানে ব্যবহার করছি। এর মানে এই নয় যে মার্কিন ইউনিভার্সিটিগুলো দৃশ্যত খারাপ হয়ে যাচ্ছে, এটি আসলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার ফল। অন্যান্য জাতিগুলো আরও দ্রুত উন্নতি করছে।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল রিফ গত বছর একটি পডকাস্টে বলেছিলেন, চীন থেকে আসা গবেষণাপত্রের সংখ্যা এবং গুণমান অসামান্য। যুক্তরাষ্ট্র যা করছে তার চেয়ে অনেক বেশি।
লিডেন কেন্দ্র ‘ওপেনএলেক্স’ নামক একটি ভিন্ন একাডেমিক ডেটাবেসের ওপর ভিত্তি করে বিকল্প একটি র্যাঙ্কিং তৈরি শুরু করেছে। সেখানে হার্ভার্ড ১ নম্বরে রয়েছে, তবে প্রবণতাটি একই। বিকল্প তালিকার পরবর্তী ১৩টি স্কুলের মধ্যে ১২টিই চীনা।
গবেষণা উৎপাদনে অন্যান্য র্যাংকিং চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান
তুরস্কের আঙ্কারার মিডল ইস্ট টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ইনফরমেটিক্স ইনস্টিটিউটর প্রকাশিত ‘একাডেমিক পারফরম্যান্স অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং'-এ হার্ভার্ড বিশ্বব্যাপী ১ নম্বরে রয়েছে। কিন্তু স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিই ছিল একমাত্র আমেরিকান ইউনিভার্সিটি যা শীর্ষ ১০-এ ছিল, যেখানে চারটি চীনা বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। আরেকটি র্যাঙ্কিং ‘নেচার ইনডেক্স' হার্ভার্ডকে প্রথম স্থানে রেখেছে, যার পরেই রয়েছে ১০টি চীনা ইউনিভার্সিটি।
চীনের সাফল্যের কারণ
চীন তার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শত শত কোটি ডলার বরাদ্দ দিচ্ছে এবং বিদেশি গবেষকদের আকৃষ্ট করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত সেপ্টেম্বর-নভেম্বরে চীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্নাতকদের জন্য বিশেষভাবে একটি ভিসা চালু করে, যাতে তারা পড়াশোনা বা ব্যবসা করতে চীনে যেতে পারে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০২৪ সালের এক বক্তৃতায় কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং মহাকাশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তার দেশের অগ্রগতির প্রশংসা করেন। দেশে গবেষণা ও শিক্ষায় বিনিয়োগের কারণগুলোও স্পষ্ট করে বলেন, একটি দেশের বৈশ্বিক শক্তি তার বৈজ্ঞানিক আধিপত্যের ওপর নির্ভর করে। বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত বিপ্লব পরাশক্তিদের মধ্যকার খেলার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
প্রেসিডেন্ট শি ল্যাবে কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে শ্বেতসার তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবনের সাথে সম্পৃক্ত তিয়ানজিন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল বায়োটেকনোলজির গবেষকদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। এটি সম্ভবত এমন একটি শিল্পের পথ তৈরি করতে পারে, যা জমি সেচ বা ফসলের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি বাতাস থেকে খাদ্য তৈরি করবে বলে মনে করেন গবেষকরা।
টরোন্টোর শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'হায়ার এডুকেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যাসোসিয়েটসের প্রেসিডেন্ট অ্যালেক্স উশার বলেন, উচ্চশিক্ষায় চীনের কাছে এখন প্রচুর অর্থ রয়েছে যা ২০ বছর আগে ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের পিছিয়ে পড়ার কারণ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন ঠিক বিপরীত পথ বেছে নিয়েছে এবং মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য গবেষণার অনুদান থেকে শত শত কোটি ডলার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং অভিবাসনবিরোধী কড়াকড়ির ফলে নতুন ধরণের চাপের মুখে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাবিদরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
২০২৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে আসা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ১৯ শতাংশ কম ছিল। বিশ্বের সেরা মেধাবীরা যদি অন্য কোথাও পড়াশোনা এবং কাজ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এই প্রবণতা আমেরিকান ইউনিভার্সিটিগুলোর মর্যাদা এবং র্যাঙ্কিংকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলছেন গবেষকরা।
ট্রাম্পের কর্মকর্তারা অবশ্য যুক্তি দিয়ে বলেছেন, এই কাটছাঁটের উদ্দেশ্য হলো অপচয় রোধ করা এবং গবেষণার বিষয়বস্তুকে বৈচিত্র্য ও অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয় থেকে সরিয়ে আনা।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লিজ হাস্টন আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, যোগ্যতা, অবাধ অনুসন্ধান এবং সত্যের অন্বেষণ বিসর্জন দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেরা বিজ্ঞান বিকাশ লাভ করতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় নেতারা ২০২৫ সাল জুড়েই সতর্ক করেছিলেন যে, ফেডারেল গবেষণা অনুদান কমানোর ক্ষেত্রে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। অনুদান হ্রাসের কারণে কোন কোন বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসা গবেষণা বাধাগ্রস্ত হবে তার তালিকার একটি ওয়েব পেজ তৈরি করেছে হার্ভার্ড। আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসর এবং বেশ কয়েকজন আইনি সহযোগী এই কাটছাঁটের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেন। সংগঠনের প্রেসিডেন্ট টড উলফসন সতর্ক করে বলেছেন, গবেষণা কাটছাঁট পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে।
গত মার্চ-এপ্রিলে ট্রাম্প প্রশাসন শত শত কোটি ডলারের গবেষণা তহবিল বন্ধ করে দেওয়ার পর একজন ফেডারেল বিচারক সরকারকে হার্ভার্ডের তহবিল পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেন। তবে প্রশাসন জানিয়েছে যে তারা ভবিষ্যতে ইউনিভার্সিটিটির অনুদান কমিয়ে দেবে। হার্ভার্ডের একজন মুখপাত্র বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অন্যান্য অনেক মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা এবং বৈশ্বিক অবস্থানও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্যতম লক্ষ্য হলো নতুন জ্ঞান তৈরি এবং আবিষ্কার করা। অনুষদ সদস্যরা প্রায়ই ফলাফল তৈরির চাপে থাকেন। যাকে ‘প্রকাশ করো অথবা ধ্বংস হও’ এর সঙ্গে তুলনা করা হয়। লিবারেল আর্টস কলেজের মতো যে ইউনিভার্সিটিগুলো প্রচুর গবেষণাপত্র তৈরির লক্ষ্য রাখে না, তারা এই র্যাঙ্কিংগুলোতে অন্তর্ভুক্ত হয় না। নেইজসেল বলেন, লিডেন র্যাঙ্কিং কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদানের মান সম্পর্কে কিছু দাবি করে না।
শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ইউনিভার্সিটিগুলো সেই সব র্যাঙ্কিং পদ্ধতিতে অনেক ভালো করেছে যেগুলোর মানদণ্ড শুধু গবেষণার বাইরেও বিস্তৃত। কিছু র্যাঙ্কিং কোনো স্কুলের সুনাম, অর্থায়ন এবং ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের হারের ওপর গুরুত্ব দেয়। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুষদে নোবেল বিজয়ীর সংখ্যাও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এই বিস্তৃত র্যাঙ্কিংগুলো পরিবর্তন হতে হয়তো কিছুটা সময় নেবে। তবে সেখানেও উচ্চশিক্ষায় আমেরিকান আধিপত্যের ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে।
২০২৬ সালের জন্য এবং টানা ১০ম বছরের মতো ব্রিটিশ সংস্থা ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিকে বিশ্বের ১ নম্বর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থান দিয়েছে। শীর্ষ পাঁচের বাকিগুলোর মধ্যে গত বছরের মতোই এমআইটি, প্রিন্সটন, কেমব্রিজ এবং তারপর হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ড (যৌথভাবে) রয়েছে।
২০২৬ সালের র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ ১০টি স্থানের মধ্যে সাতটিই আমেরিকার দখলে ছিল। কিন্তু তালিকার নিচের দিকে তাকালে দেখা যায় আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিছিয়ে যাচ্ছে। গত বছরের তুলনায় ৬২টি মার্কিন স্কুলের র্যাঙ্কিং কমেছে, যেখানে মাত্র ১৯টির উন্নতি হয়েছে।
দশ বছর আগে বেইজিংয়ের পিকিং ইউনিভার্সিটি ও সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি টাইমস হায়ার এডুকেশনের তালিকায় যথাক্রমে ৪২তম এবং ৪৭তম স্থানে ছিল। এখন তারা শীর্ষ ১০-এর ঠিক নিচেই অবস্থান করছে। সিংহুয়া ১২তম এবং পিকিং ১৩তম স্থানে রয়েছে। হংকংয়ের ছয়টি ইউনিভার্সিটি এখন শীর্ষ ২০০-এর মধ্যে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার চারটি ইউনিভার্সিটি শীর্ষ ১০০-তে রয়েছে।
কিছু বিদেশি স্কুলের উন্নতি হলেও ডউক ইউনিভার্সিটির মতো নামী আমেরিকান ইউনিভার্সিটি পিছিয়ে গেছে। যেমন, ২০২১ সালে ডউক ২০তম স্থানে ছিল, এখন ২৮তম স্থানে রয়েছে। একই সময়ে এমরি ইউনিভার্সিটি ৮৫তম থেকে ১০২তম স্থানে নেমেছে। দশ বছর আগে নটরডেম ১০৮তম ছিল, এখন এটি ১৯৪ নম্বরে।
মিস্টার উশার বলেন, হার্ভার্ডের গবেষণা উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে এমন চাপগুলোতে (ফেডারেল অনুদান হ্রাস বা পিএইচডি প্রোগ্রামে কাটছাঁট) তাৎক্ষণিকভাবে র্যাঙ্কিংয়ে প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। গবেষণা শুরু হওয়ার চার বা পাঁচ বছর পর তা ‘নেচার’ বা ‘সায়েন্স’ জার্নালে প্রকাশিত হয়। তাই এখানে বেশ সময়ের ব্যবধান রয়েছে। আমি আশা করি না যে আগামী কয়েক বছরেই এর বড় কোনো প্রভাব দেখা যাবে।
চীন রসায়ন এবং পরিবেশ বিজ্ঞানের মতো বিষয়ে উন্নতি করলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ সাধারণ জীববিজ্ঞান এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতো অন্যান্য ক্ষেত্রে এখনও আধিপত্য বজায় রেখেছে। তবে একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, চীনা গবেষকরা পশ্চিমের চেয়ে একে অপরকে বেশি সাইটেশন করার মাধ্যমে নিজেদের র্যাঙ্কিং বাড়িয়ে তুলছেন।
গবেষণা নিয়ে গবেষকদের মন্তব্য
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ফেলো অ্যালান রুবির মতে, বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিং একটি পুরানো প্রপঞ্চ (এমন একটি ঘটনা যা পর্যবেক্ষণযোগ্য কিন্তু বোঝা কঠিন। যেমন মায়া, ভ্রম, বিস্তার, অসত্য বা ছলনা) যা বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে শুরু হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা র্যাঙ্কিং ব্যবহার করে কোথায় আবেদন করবে তা ঠিক করে এবং শিক্ষাবিদরা একে কাজের বা গবেষণার গাইড হিসেবে ব্যবহার করেন। কিছু সরকার গবেষণার অর্থ বরাদ্দে এটি ব্যবহার করে এবং নিয়োগকর্তারা বড় সংখ্যক চাকরিপ্রার্থীদের বাছাই করার হাতিয়ার হিসেবে এটি দেখেন।
মিস্টার রুবি বলেন, আপনি যদি বিশ্বের সেরা মেধাবী শিক্ষার্থী বা গবেষককে আকৃষ্ট করতে চান, তবে আপনাকে এটি সংকেত দিতে হবে যে আমরা একটি উচ্চ র্যাঙ্কধারী প্রতিষ্ঠান। মার্কেটিংয়ের বাইরেও র্যাঙ্কিং গুরুত্বপূর্ণ কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মান গুরুত্বপূর্ণ।
কাতার দোহায় জর্জিটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ বলেন যে, ভালো বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় শক্তির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক টানা কঠিন হতে পারে, তবে আমরা সবাই জানি যে ১৯৩০ দশকে জার্মানরা যখন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ধ্বংস করেছিল, তখন তা সম্ভবত তাদের অনেকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।
লিডেন র্যাঙ্কিংয়ের পরিষেবা পরিচালক মার্ক নেইজসেলের মতে, এই র্যাঙ্কিংয়ে ‘ওয়েব অফ সায়েন্স’-এ থাকা গবেষণাপত্র এবং সেগুলোর সাইটেশন বিবেচনা করা হয়। এটি একটি একাডেমিক প্রকাশনা ডেটাবেস যা ‘ক্লারিভেট’ নামক একটি কোম্পানির মালিকানাধীন। হাজার হাজার একাডেমিক জার্নাল এই ডেটাবেসে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বৈশ্বিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংগুলো সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণ মানুষের খুব একটা মনোযোগ আকর্ষণ করে না। তা সত্ত্বেও, কিছু অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদ চীন থেকে গবেষণা উৎপাদনের যে প্রবৃদ্ধি র্যাঙ্কিংয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে তা দেখছেন এবং সতর্ক করছেন যে, আমেরিকা পিছিয়ে পড়ছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস