ইসরাইলি গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন এপস্টেইন

এফবিআই নথি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:২৬

এফবিআইর নথিতে জেফরি এপস্টেইন সম্পর্কিত এক বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে এই বিতর্কিত ধনকুবের সাবেক ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের অধীনে একজন 'গুপ্তচর' হিসেবে প্রশিক্ষিত ছিলেন। 
২০২০ সালের একটি গোপন নথিতে একজন অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এপস্টেইন মূলত ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের একজন এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। হার্ভার্ডের আইনের অধ্যাপক অ্যালান ডারশোভিটজের সঙ্গে এপস্টেইনের ফোনালাপের নোট নিয়ে সেগুলো মোসাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো বলে সেই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি ডারশোভিটজ নিজেও মোসাদের দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন এবং এপস্টেইনকে মার্কিন ও মিত্র গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অংশ বলে মনে করতেন।
এই চাঞ্চল্যকর নথিতে আরও বলা হয়েছে যে, এপস্টেইনের সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা মাশা বুচারের প্রতিষ্ঠিত সিলিকন ভ্যালির প্রতিষ্ঠান 'ডে ওয়ান ভেঞ্চারস' মূলত প্রযুক্তি চুরির উদ্দেশ্যে কাজ করছিল। 
সূত্রটি দাবি করেছে, মাশা বুচার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখতেন। এছাড়া ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পরিবার এবং তার বাবা চার্লস কুশনারের সঙ্গে ইসরাইলের গভীর সম্পর্ক ও তাদের ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয়টিও নথিতে উঠে এসেছে। 
সম্প্রতি প্রকাশিত অন্যান্য নথিতে দেখা গেছে, এহুদ বারাকের সঙ্গে এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, যেখানে তারা বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ব নেতাদের নিয়ে আলোচনা করতেন।
ইসরাইলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় এহুদ বারাকের তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, এপস্টেইনের সঙ্গে বারাকের ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করে না যে এপস্টেইন ইসরাইলের হয়ে কাজ করতেন। 
বরং তিনি অভিযোগ করেন যে বারাক দীর্ঘকাল ধরে ইসরাইলি গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন এবং নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার জন্য উগ্র বামপন্থিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। বারাকের ব্যক্তিগত স্বার্থই তাকে এপস্টাইনের মতো মানুষের সঙ্গে যুক্ত করেছে বলে নেতানিয়াহু মন্তব্য করেন।
নথিতে আরও উঠে এসেছে, এহুদ বারাক ও এপস্টেইন মিলে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের পরামর্শক ফি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়েও আলোচনা করতেন। এফবিআই-এর এই 'কনফিডেনশিয়াল হিউম্যান সোর্স' বা গোপন সূত্রের প্রতিবেদনটি মূলত মার্কিন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিদেশি প্রভাব তদন্তের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগগুলো নিয়ে এখনও ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে, তবে এগুলো এপস্টেইন মামলাকে এখন একটি আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা লড়াইয়ের স্তরে নিয়ে গেছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই।