যুক্তরাষ্ট্রে মা-বাবার ডিপোর্টেশন ঠেকাতে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিচ্ছে সন্তানরা

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৩

বৈধ কাগজপত্রহীন বাবা-মা যাতে ‘আইস’ এর হাতে ধরা পড়ে থেকে বহিস্কৃত না হয়, সেজন্য আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারী তাদের সন্তানরা সামরিক বাহিনীতৈ যোগ দিচ্ছে। ‘আইস’ এর ধরপাকড়ের মধ্যে বিভিন্ন স্টেটে আনডকুমেন্টেড বাবা-মা’র সন্তানরা ন্যাশনাল গার্ডসহ সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় যোগ দেয়ার জন্য রিক্রুটিং সেন্টারগুলোতে ভিড় করছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে।
তারা ভাবছে যে, সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার মাধ্যমে তারা যে শুধু চাকুরিজনিত উপকার লাভ করবে তাই নয়, বরং এর মাধ্যমে তারা তাদের আনডকুমেন্টেড বাবা-মাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কৃত হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব স্টেটের বড় সিটিগুলোতে হিসপানিক কমিউনিটির লোকজন অধিক সংখ্যায় বসবাস করছে, সেখানে আইস’ এর অভিযানে বহু অবৈধ ইমিগ্রান্ট আটক ও ডিপোর্টেড হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টের আমেরিকান সিটিজেন সন্তান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ ব্যক্ত করছে, যাতে তারা তাদের বাবা-মাকে আমেরিকায় রাখতে পারে।
এ কর্মসূচি যে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদেই শুরু হয়েছে এমন নয়। তবে এ কর্মসূচি নিয়ে খুব আলোচনা হয়নি। ‘প্যারোল ইন প্লেস’ নামে এই সরকারি কর্মসূচি প্রকৃতপক্ষে চালু হয়েছে ২০১৩ সালে। আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্ট বাবা-মাকে ডিপোর্টেশন থেকে রক্ষার ক্ষেত্রে এ কর্মসূচিকে বিবেচনা করা হয় শেষ ভরসা ও সামরিক বাহিনীতে রিক্রুটমেন্টে শক্তিশালী উপায় হিসেবে। যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীতে কেবল আমেরিকান সিটিজেন এবং স্থায়ী বাসিন্দারাই যোগ্য বলে বিবেচিত। ‘প্যারোল ইন প্লেস’ শুধু যে আনডকুমেন্টেড বাবা-মাকে ডিাপোর্টেশন থেকে রক্ষা করে তাই নয়, তাদের যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার বা গ্রিনকার্ড পাওয়ার সুযোগও ত্বরান্বিত করে।
‘প্যারোল ইন প্লেস’ কর্মসূচির অধীনে আনডকুমেন্টেড ইমিগ্রান্টদের আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারীরা সন্তানেরা সামরিক বাহিনীতে যোগ দিলে খুব সহজে তাদের বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। পশ্চিম উপকূলে অরিগন স্টেটে কলাম্বিয়া নদীর তীরে ছোট সিটি ডালেস এর বাসিন্দা হুয়ান গত বছরের সেপ্টেম্বরে ন্যাশনাল গার্ডে যোগ দিয়েছেন।
তার মতো প্রশিক্ষণকাল বেশ সহজ, তাকে প্রতি সপ্তাহে মাত্র একদিন প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে হয়েছে। সামারে দুই সপ্তাহ টানা প্রশিক্ষণ নিতে হবে। উল্লেখ্য, ন্যাশনাল গার্ড এর সদস্যদের যুদ্ধ চলাকালে, দেশে অস্থিরতা দেখা দিলে অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্টেট অথবা ফেডারেল সরকার ফুলটাইম কাজের জন্য নিয়োগ করতে পারে।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যে, ইরাক যুদ্ধ চলাকালে ২০০৭ সালেল মে মাসে অ্যালেক্স হিমেনেজ নামে একজন আমেরিকান সার্জেন্টের নেতৃত্বে একটি প্লাটুন যখন বাগদাদের উত্তরে এক গ্রামের টহল দিচ্ছিল তখন ইরাকি দুস্কৃতকারীরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং হিমেনেজকে বন্দী করে। এক বছরের বেশি সময় পর তার দেহাবশেষ পাওয়া যায়।
আমেরিকান বাহিনী হিমেনেজকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সর্বত্র চষে বেরিয়েছে, শেষ পর্যন্ত তার দেহাবশেষ পেয়ে তার মৃত্যু সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে। তার স্ত্রী ডোমিনিকান রিপাবলিক থেকে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিল এবং তাকে যখন ডিপোর্ট করার প্রস্তুুতি চলছিল তখন এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবাদের ঝড় উঠে এবং বুশ প্রশাসন তাকে গ্রিনকার্ড প্রদান করে। এ দৃষ্টান্ত ‘প্যারোল ইন প্লেস’ এর প্রাথমিক রূপ ছিল বলে ইমিগ্রেশন আইনজীবীরা মনে করেন। ওই সময়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মাইকেল শেরটফ বলেছিলেন, “আমাদের সৈন্যরা যে ত্যাগ স্বীকার করেন সেজন্য তারা ও তাদের পরিবার আমাদের সর্বোচ্চ সম্মান পাওয়ার যোগ্য।
কয়েক বছর পর এ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এর লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যাতে মানসিক শান্তি নিয়ে যুদ্ধে যেতে পারে। কিন্তু তখনো দেখা গেছে যে, সশস্ত্র বাহিনীর কোনো সদস্যকে যদি সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি না দেওয়া হয় তাহলে তাদের আনডকুমেন্টেড বাবা-মা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের বৈধতা হারায়।
২০২৩ সালে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের প্রায় ১১,৫০০ আনডকুমেন্টেড সদস্য উপকৃত হয়েছেন, পূর্ববর্তী বছরের চেয়ে যা ৩৫ শতাংশ অধিক বলে ইউএস সিটিজেনশিপ এন্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস জানিয়েছে। ২০২৫ সালে নেভাদায় ন্যাশনাল গার্ডে নতুন রিক্রুট করা সদস্যদের ২০ শতাংশের বাবা-মা আনডকুমেন্টেড, যারা ‘প্যারোল ইন পিস’ এর সুযোগ লাভ করেছেন।