যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে প্রায় ৪ লাখ অভিবাসী গ্রেপ্তার

সহিংস অপরাধী ১৪ শতাংশেরও কম
ডেস্ক রিপোর্ট
  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৩৩

ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসনবিরোধী অভিযানে বিপুলসংখ্যক প্রায় ৪ লাখের কাছাকাছি অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট, আইস। হোমল্যান্ড সিকিউরিটির একটি অভ্যন্তরীণ নথি বলছে, এই অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে যাদের তুলে ধরা হয়েছিল ‘সবচেয়ে ভয়ংকর অপরাধী’ হিসেবে, বাস্তবে তাদের সেটা খুবই সীমিত। গ্রেপ্তার হওয়া প্রায় চার লাখ অভিবাসীর মধ্যে সহিংস অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ড ছিল ১৪ শতাংশেরও কমের বিরুদ্ধে।
সিবিএস নিউজের কাছে থাকা নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির শেষ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত সময়ে আইস প্রায় তিন লাখ ৯৩ হাজার অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করে। এদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক ইতিহাসই ছিল না; প্রায় ৪০ শতাংশ কেবল বেসামরিক অভিবাসন আইনের লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক হন, যেমন অনুমতি ছাড়া বসবাস বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবস্থান। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ড ছিল, তাদের মধ্যেও বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই তা সহিংস অপরাধ নয়।
ডিএইচএসের হিসাব অনুযায়ী:
হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত অভিযোগ বা দণ্ড: প্রায় ২,১০০ জন, যৌন নিপীড়ন: ৫,৪০০ জন, ডাকাতি: ২,৭০০ জন, হামলা: প্রায় ৪৩,০০০ জন, অপহরণ: ১,১০০ জন, অগ্নিসংযোগ: ৩৫০ জন
এই সব মিলিয়ে সহিংস অপরাধ সংশ্লিষ্ট গ্রেপ্তার মোটের ১৩.৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, ২২,৬০০ জনের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ, প্রায় ৬,১০০ জনের বিরুদ্ধে অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগ, এবং প্রায় ৩০,০০০ জনের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (ডিইউআই) অভিযোগ বা দণ্ড ছিল। আরও প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ‘অন্যান্য অপরাধ’ উল্লেখ করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রথমবার অবৈধভাবে প্রবেশের মতো অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধও রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিসংখ্যান ট্রাম্প প্রশাসনের সেই দাবিকে দুর্বল করে দেয় যে, অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল খুনি, ধর্ষক ও ভয়ংকর অপরাধীরা। বরং বাস্তবে বিপুলসংখ্যক সাধারণ অভিবাসী, যাদের বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের কোনো ইতিহাস নেই তারাই এই অভিযানে আটক হয়েছেন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খুন, যৌন সহিংসতা, ডাকাতি বা গ্যাং–সংযোগের মতো অপরাধে জড়িতদের সংখ্যা মোট গ্রেপ্তারের খুব সামান্য অংশ। হত্যাকাণ্ড ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ বা দণ্ডে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র কয়েক হাজার মানুষ, যা সামগ্রিক অভিযানের তুলনায় নগণ্য। বরং বড় অংশজুড়ে রয়েছে মাদক, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, অস্ত্র রাখা কিংবা অভিবাসন সংক্রান্ত অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধ।
এই তথ্য ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের সেই বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, যেখানে বলা হচ্ছিল আইসের অভিযান মূলত খুনি, ধর্ষক ও ভয়ংকর অপরাধীদের লক্ষ্য করে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অভিযানের আওতায় পড়া বহু মানুষই সহিংস অপরাধে জড়িত নন এবং অনেকেই কেবল কাগজপত্রের জটিলতার কারণে গ্রেপ্তার হয়েছেন। মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন শহরে অভিযানের কৌশল নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ার পেছনেও এই বাস্তবতাই বড় কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এর প্রভাব পড়েছে জনমতেও। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের নির্বাসন কর্মসূচির প্রতি সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং অধিকাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, অভিবাসন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত কঠোর আচরণ করছেন। যদিও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলছে, অনেক ‘অ-সহিংস’ অপরাধও সমাজের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তবু অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মতে এই নথি স্পষ্ট করে দিয়েছে আইসের কঠোর অভিযানে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ছেন এমন অভিবাসীরা, যাদের বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের কোনো ইতিহাস নেই।