
নতুন মৌসুমের শুরুতেই একদম ভিন্ন রূপে হাজির হলেন আরলিং হালান্ড। আর ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা স্ট্রাইকারের এই রূপবদল দেখে পরিবারের ভালোবাসার মানুষদের প্রতিক্রিয়াও ছিল দেখার মতো।
দীর্ঘ সোনালী চুলের জন্য পরিচিত ম্যানচেস্টার সিটির এই নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ড রোববার তার ইউটিউব চ্যানেল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। বার্নমাউথের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধনী ম্যাচের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে একদম ছোট করে ছাঁটা চুলে তাকে দেখা যায়।
ক্লাবটিতে কাটানো বিগত চারটি বছর ধরে তিনি যেভাবে ‘ভাইকিং’দের মতো লম্বা চুল রেখেছিলেন, সেই অভ্যাসে এটি এক বড় ধরনের পরিবর্তনই বটে।
প্রকাশিত ইউটিউব ভিডিওতে তার দীর্ঘদিনের ২৪ বছর বয়সী প্রেমিকা ইসাবেল হাভগসেং জোহানসেনকেও দেখা যায়। হালান্ডের দীর্ঘ চুলগুলো কেটে ফেলার পর বাকরুদ্ধ জোহানসেনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার তো কান্না পাচ্ছে।’
প্রথমবারের মতো চুলের বড় অংশ কেটে ফেলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি একরকম চিৎকার করে ওঠেন। কাটা চুলগুলো হাতে নিয়ে বিস্ময় চেপে রাখতে না পেরে বলেন, ‘ও মাই গড!’
এরপর হালান্ড যখন তার কাঙ্ক্ষিত ‘বাজ কাট’ রূপ পেলেন, জোহানসেন আবারও বিস্ময়ে কেঁপে ওঠেন এবং মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।
কয়েকবার প্রতিক্রিয়া জানানোর পর শেষমেশ তিনি বেশ আনন্দিত হয়েই বলে ওঠেন, ‘বেশ মানিয়েছে তো! তোমাকে খুব মিষ্টি লাগছে।’
যদিও প্রেমিকার এ মন্তব্য ঠিক পছন্দ হয়নি ২৬ বছর বয়সী হালান্ডের। কারণ তিনি নিজেকে একটু রাফ অ্যান্ড টাফ বা কঠোর চেহারায় দেখতে চেয়েছিলেন।
জোহানসেন আরও যোগ করেন, ‘সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার মনে হবে— পাশে কে শুয়ে আছে?’
রোববারের ম্যাচের একটি ছবি নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে জোহানসেন জানান, তিনিও চুলে নতুন ছাঁট দিয়েছেন। তার ২১ লাখ অনুসারীদের উদ্দেশে তিনি লেখেন, ‘শরতের আগে একটু নতুন রূপ।’ তার এক অনুরাগী মন্তব্যের ঘরে লেখেন, ‘পরিবারের সবাই মিলে চুল কাটার দিন!’
নরওয়ের ব্রাইনে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা এই জুটিকে এই বছরের ফিফা বিশ্বকাপে বেশ নজর কাড়তে দেখা গেছে। বিশ্বকাপে হালান্ড নিজের দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যান।
হালান্ড যখন জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে খেলতে যান, তখন ইনস্টাগ্রামে তার সঙ্গে প্রথম যোগাযোগ করেন জোহানসেন।
হালান্ড এর আগে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘সে-ই আমাকে প্রথম বার্তা পাঠিয়েছিল। সেই আমাকে প্রথম পছন্দ করেছিল, আমি নই।’
হালান্ডের চুলের নতুন ছাঁট দেখে বাকরুদ্ধ প্রেমিকা
এই দম্পতির ঘরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। তবে তারা এখনো পর্যন্ত সন্তানের কোনো ছবি বা নাম প্রকাশ করেননি।
নিজের দীর্ঘ চুল কেটে ফেলার আগে জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচের কাছ থেকে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন বলে জানান হালান্ড। ইব্রাহিমোভিচ তাকে বলেছিলেন, ‘তোমার সব শক্তি কিন্তু ওই চুলে!’
তবে সাবেক এই বার্সেলোনা ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা এবং বাইবেলের ‘সামসন’ কাহিনির সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই চুল কেটে ফেলেন হালান্ড।
নাপিতের চেয়ারে বসে হালান্ড কল্পনা করার চেষ্টা করছিলেন যে, ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকরা তার এই নতুন রূপ দেখে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
হালান্ড হেসে বলেন, ‘সমর্থকদের মুখ থেকে গানটা শোনার জন্য তর সইছে না— ‘আরে, ওই ব্যাটা আবার কে?’ আমি চাই সিটির সমর্থকরা ঠিক এই গানটাই গাক!’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ভাবুন তো, আগামীকাল যদি আমি হেডে একটা গোল করে বসি!’
বিশ্বকাপের পরপরই বেশ আলোচনায় ছিলেন হালান্ড ও জোহানসেন দম্পতি। গত মাসে সিসিলির তাওরমিনায় ডলচে অ্যান্ড গাবানার ফ্যাশন শোতে দারুণ লুকে হাজির হয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন তারা।
সম্প্রতি সিসিলিতে জেনিফার লোপেজের একটি কনসার্টেও অংশ নেন এই যুগল। সেখানে অভিনেতা মিশেল মরোনে জোহানসেনের সঙ্গে কথা বলার সময় হালান্ডকে কিছুটা ‘ঈর্ষান্বিত’ হতে দেখা গিয়েছিল।