আমাদের প্রতি সবাই ঈর্ষান্বিত, মানুষ আমাদের হিংসা করে

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট
স্পোর্টস ডেস্ক
  ২৫ জুলাই ২০২৬, ২৩:৩৪

বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পরও আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ওপর নেমে আসা বিশ্বব্যাপী সমালোচনার ঝড়ে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। দলের ‘অপেশাদার’ আচরণের বিরুদ্ধে সমালোচনাকে স্রেফ ‘ঈর্ষা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। 
তবে এর মাঝেই বেশ কিছু ভুলের কারণে নিজেই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন মিলেই। সোমবার (২০ জুলাই) তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) ভুলবশত একটি পূর্ব-নির্ধারিত জয়ের উদযাপনী পোস্ট প্রকাশ করে ফেলেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক হাসির খোরাক যোগায়। 
এ ছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার নেতিবাচক পারফরম্যান্সের কারণে যেখানে বেশিরভাগ ফুটবলপ্রেমীই তাদের শিরোপা জয়ী হতে দেখার যোগ্য মনে করেননি, সেখানে প্রেসিডেন্ট হঠাৎ করে একটি জাতীয় ছুটি ঘোষণা করায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। 
আর্জেন্টিনার জন্য এই টুর্নামেন্টটি ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। 
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে ওঠে। আর তা চরম সীমায় পৌঁছায় ফাইনালের একদম শেষ বাঁশি বাজার পর—যখন লেয়ান্দ্রো পারেদেস ঘুসি মারার মতো আচরণ করে মাঠে একটি মারামারির সূচনা করেন। এ ছাড়া, স্পেনের ট্রফি উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার অধিকাংশ খেলোয়াড় মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় তাদের ‘খেলোয়াড়ি মনোভাবহীন’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। 
তবে এসব সমালোচনা মানতে নারাজ প্রেসিডেন্ট মিলেই। তার মতে, এসব ক্ষোভের মূল কারণ শুধুই ঈর্ষা। এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আর্জেন্টিনার সমস্যা হলো আমরা আকর্ষণীয়, আমরা নজর এড়াতে পারি না। মানুষ আমাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত কারণ আমরা প্রায় সব কিছুতেই সেরা। দুঃখিত, তবে কথাটা কাউকে না কাউকে তো বলতেই হতো।’ 
তিনি আরও যোগ করেন, ‘রোববারের (১৯ জুলাই) ম্যাচটি আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল, তবুও শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা সমতা ফেরাতে পারত। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে রেফারি তাদের বিরুদ্ধে কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা অত্যন্ত সংযত ও সুশৃঙ্খল উপায়ে জবাব দিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত লড়াই করে নিজেদের আলাদা পরিচয় ধরে রেখেছে।’ 
যদিও প্রেসিডেন্টের এমন ‘মার্জিত’ দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ফাইনালের পর খেলোয়াড়দের উসকানিমূলক ও সহিংস আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের এই অভিভাবক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা পুরো বিষয়টি নিয়ে শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা বিষয়ক তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে এবং তদন্ত রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 
ইতোমধ্যেই আর্জেন্টিনার ফুটবল দলকে ফুটবলে আজীবন নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে একটি অনলাইন পিটিশনে রেকর্ড ২৩ মিলিয়নের (২ কোটি ৩০ লাখ) বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। 
অন্যদিকে, স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আর্জেন্টিনা ফুটবলারদের এই ধরনের আচরণকে ‘অসহনীয় ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ম্যাচ শেষে আমি যখন সতীর্থদের জড়িয়ে ধরে জয় উদযাপন করছিলাম, তখন বিষয়টি লক্ষ্য করিনি। কিন্তু যা ঘটেছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যে মানের খেলোয়াড়দের আমি ম্যাচের আগেও প্রশংসা করেছি, তারা এবং তাদের মহান কোচ নিশ্চয়ই এই আচরণ দেখে আমাদের মতোই লজ্জিত হয়েছেন।’ 
স্প্যানিশ কোচ আরও বলেন, ‘আর্জেন্টিনার এহেন উসকানি ও আগ্রাসনের মুখেও আমাদের খেলোয়াড়রা যেভাবে নিজেদের সংযত রেখেছে এবং পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছে, আমি তার প্রশংসা করতে চাই।’