ইরান যুদ্ধ ‘ঈশ্বরের পরিকল্পনা’ বলে প্রচার মার্কিন কমান্ডারদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ০৬ মার্চ ২০২৬, ০০:১৪

মার্কিন সেনাদের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে ‘ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কিছু কমান্ডারের বিরুদ্ধে। 
একটি ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক নজরদারি সংস্থা জানিয়েছে, এ নিয়ে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের কাছ থেকে শতাধিক অভিযোগ পেয়েছে তারা। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন- মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (এমআরএফএফ) জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখা—মেরিন, বিমানবাহিনী ও স্পেস ফোর্সসহ—মোট ২০০ জনের বেশি সদস্য তাদের কাছে অভিযোগ পাঠিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কিছু সামরিক কর্মকর্তা বাইবেলের ‘শেষ সময়’ (End Times) সম্পর্কিত বক্তব্য ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে ধর্মীয়ভাবে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
একটি অভিযোগে এক নন-কমিশন্ড অফিসার (এনসিও) জানিয়েছেন, তাদের ইউনিট যে কোনো সময় ইরানবিরোধী অভিযানে যোগ দিতে মোতায়েন হতে পারে। ওই কর্মকর্তার দাবি, তাদের কমান্ডার সৈন্যদের উদ্দেশে বলেছেন যে এই যুদ্ধ ‘ঈশ্বরের ঐশ্বরিক পরিকল্পনার অংশ’ এবং তিনি বাইবেলের বুক অব রেভেলেশন (Book of Revelation) থেকে আর্মাগেডন ও যিশু খ্রিষ্টের আসন্ন প্রত্যাবর্তন সম্পর্কিত বিভিন্ন উদ্ধৃতি উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কমান্ডার সৈন্যদের বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে যিশু খ্রিষ্ট ইরানে ‘সংকেতের আগুন জ্বালাতে’ অভিষিক্ত করেছেন, যা আর্মাগেডন ঘটাবে এবং পৃথিবীতে তার পুনরাগমনকে চিহ্নিত করবে।  
ওই এনসিও ১৫ জন সেনাসদস্যের পক্ষ থেকে অভিযোগটি দায়ের করেন। তাদের মধ্যে ১১ জন খ্রিষ্টান, একজন মুসলিম এবং একজন ইহুদি ধর্মাবলম্বী ছিলেন। অভিযোগটি প্রথমে এমআরএফএফ স্বাধীন সাংবাদিক জনাথন লার্সেন-এর সঙ্গে শেয়ার করে। 
এ বিষয়ে এমআরএফএফের সভাপতি ও সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা মাইক ওয়েইনস্টেইন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যখনই যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল জড়িত হয়, তখনই আমরা এমন খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী বক্তব্য দেখতে পাই। অনেকের ধারণা, এসব গোষ্ঠী এখন সরকার এবং বিশেষ করে সামরিক বাহিনীতে প্রভাব বিস্তার করেছে। 
তিনি আরও বলেন, সামরিক বাহিনীতে কর্মরত সদস্যদের পক্ষে এ ধরনের বিষয়ে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করা কঠিন, কারণ তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাধারণ কোনো কর্মস্থলের ব্যবস্থাপকের মতো নন।
ওয়েইনস্টেইনের মতে, এসব অভিযোগ সামরিক বাহিনীতে খ্রিষ্টান উগ্রবাদের প্রবণতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, কিছু কমান্ডার এই যুদ্ধকে ‘বাইবেলসম্মত যুদ্ধ’ হিসেবে দেখছেন এবং মনে করছেন এটি খ্রিষ্টান মৌলবাদীদের বিশ্বাস করা ‘এন্ড টাইমস’-এর দ্রুত আগমনের লক্ষণ।
তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে নির্ধারিত ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথকীকরণের নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। 
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদের প্রতি সমর্থনের জন্য পরিচিত। তিনি আগে ‘স্ফেয়ার সভেরেইনগটি’ নামে একটি মতবাদ সমর্থন করেছিলেন, যা খ্রিষ্টান রিকনস্ট্রাকশনবাদ (ক্রিশ্চিয়ান রিকনস্ট্রাকশনিজম) থেকে উদ্ভূত একটি দৃষ্টিভঙ্গি। এই মতাদর্শে সমকামিতার জন্য মৃত্যুদণ্ড এবং কঠোর পিতৃতান্ত্রিক পরিবার ও গির্জা ব্যবস্থার কথা বলা হয়।
২০২৫ সালের আগস্টে হেগসেথ সামাজিক মাধ্যমে এমন একটি সংবাদ ক্লিপ শেয়ার করেন, যেখানে আইডাহোভিত্তিক গির্জা সংগঠন- কমিউনিয়ন অব রিফর্মড এভানজেলিকাল চার্চেস (সিআরইসি)-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা পাদ্রি ডগ উইলসন বলেন, তিনি মনে করেন না যে নারীরা সামরিক বাহিনীতে নেতৃত্বের পদে থাকা বা গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ দায়িত্ব পালন করা উচিত। 
ওই সাক্ষাৎকারে ডগ উইলসন বলেন, আমি চাই এই দেশটি একটি খ্রিষ্টান দেশ হোক এবং পুরো বিশ্ব একটি খ্রিষ্টান বিশ্বে পরিণত হোক।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বরং তারা ইরানে সামরিক অভিযানের বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের কিছু প্রকাশ্য বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেছে।