মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েল সংঘাত 

ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে সুবিধা দেখছেন পুতিন!

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৫ মার্চ ২০২৬, ১৫:২৬


মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েল সংঘাত এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে যখন পুরো অঞ্চল অস্থিরতার মুখে, তখন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই পরিস্থিতিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, তেহরানের জন্য এই পরিস্থিতি সংকটজনক হলেও ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিতে এটি মস্কোর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং চলমান সংঘাত রাশিয়ার দীর্ঘদিনের একটি রাজনৈতিক যুক্তিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। ক্রেমলিন বরাবরই দাবি করে আসছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা শক্তি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করছে এবং বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিকে রাশিয়ার অনেক বিশ্লেষক সেই দাবির প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
পুতিনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ২০১১ সালের লিবিয়া সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল বলে মনে করা হয়। সে সময় ন্যাটোর সামরিক অভিযানের পর লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হন। পশ্চিমা বিশ্বের কাছে সেটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, পরবর্তী সময়ে দেশটি দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, ওই ঘটনার পর থেকেই পুতিন পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপকে রাশিয়ার নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেন।
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পুতিনের দৃষ্টিতে এটি কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়; বরং পশ্চিমা বিশ্বের সামরিক নীতির আরেকটি উদাহরণ। এ কারণে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে ‘প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রেও এই ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়লে রাশিয়া কিছু কৌশলগত সুবিধাও পেতে পারে। প্রথমত, তেলের দাম বেড়ে গেলে জ্বালানি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল রাশিয়ার অর্থনীতিতে অতিরিক্ত রাজস্ব আসবে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বেশি মনোযোগ দিতে বাধ্য হয়, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধে কিয়েভের প্রতি পশ্চিমা সহায়তা কিছুটা কমে যেতে পারে— যা মস্কোর জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে।
তবে বাস্তবতা হলো, ইরান রাশিয়ার একটি ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগী হলেও এই সংঘাতে মস্কো এখন পর্যন্ত সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে না। এর একটি কারণ হলো ইসরায়েলের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সমন্বয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়াতে না চাওয়াও রাশিয়ার সতর্ক অবস্থানের একটি কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সরাসরি জড়িয়ে না পড়েই কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে প্রভাব ফেলছে, সেটিও রাশিয়ার অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হতে পারে। ইরান–ইসরায়েল সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংকট তৈরি করলেও বৈশ্বিক রাজনীতিতে এর প্রভাব বহুমাত্রিক। সেই সমীকরণে রাশিয়া কীভাবে নিজের কৌশল সাজায়, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।