
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে যেন বসেছিল এক টুকরো বাংলাদেশের মহাসম্মেলন। উৎসবমুখর পরিবেশ আর প্রবাসী বাঙালিদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল ২০২৬’। রোববার আর্চি স্পিগনার পার্কে দিনব্যাপী এই আয়োজনে পাঁচ হাজার বাংলাদেশির পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষও এই উৎসবে যোগ দেন। দিনব্যাপী প্রাণবন্ত পরিবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কেনাকাটার মাধ্যমে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল ২০২৬ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক অনবদ্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের মূলধারার রাজনীতিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ব্যবসায়িক উদ্যোগের এমন বৃহৎ সমাবেশকে কমিউনিটির জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের উত্তরীয় ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোমা সৈয়দ, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর লিরয় কমরি, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন লিউ, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ওম্যান অ্যালিসিয়া এল. হাইন্ডম্যান, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের এমডব্লিউবিই অফিসের সিনিয়র অ্যাডভাইজার দিলীপ চৌহান, ডেমোক্র্যাট কুইন্স কাউন্টি মেম্বার ফাহাদ সোলাইমান, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের ডাইরেক্টর অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী, উৎসব গ্রুপের চেয়ারম্যান রায়হান জামান, হিলসাইড হোন্ডার সেলস ম্যানেজার মোহাম্মদ চৌধুরী, আশা গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ও সিইও আকাশ রহমান, গোল্ডেন এজ হোমকেয়ারের প্রেসিডেন্ট ও সিইও শাহ নেওয়াজ, ফ্রেশ ফুডের প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ জি সারওয়ার, জে১ ড্রাইভার্স ট্রেনিংয়ের প্রেসিডেন্ট আলী করিম, বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট কাপ্তেন এ কে এম আলম প্রিন্স, সাধারণ সম্পাদক জামিল সারওয়ার এবং উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাসিমা আক্তার নিশা।
উৎসবকে কেন্দ্র করে মেলা প্রাঙ্গণে খাবার, পোশাক, গহনা, লাইফস্টাইলসহ বিভিন্ন পণ্যের মোট ১১৩টি স্টল অংশ নেয়। দর্শনার্থীরা দেশীয় খাবার, সমকালীন ফ্যাশন সামগ্রী ও নানা ধরনের ব্যবসায়িক পণ্যের প্রদর্শনী ও কেনাকাটা উপভোগ করেন। এ ছাড়া মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শিশুদের জন্য তৈরি বিশেষ কিডস জোন, যা পরিবার নিয়ে আসা দর্শকদের বাড়তি আনন্দ জোগায়।
মেলার দ্বিতীয় পর্বে সাদিয়া খন্দকার ও মুক্তা হকের যৌথ সঞ্চালনায় একটি জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সেখানে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসান, নাজু আখন্দ, ডিজে রাহাত, পারভেজ সাজ্জাদ, তৃনিয়া হাসান, কামরুজ্জামান বকুল, সুজন আরিফ ও রেশমি মির্জা গান গেয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেন। উৎসব গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রবাসে কমিউনিটির পারস্পরিক যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করা হয়েছে।
এই বৃহৎ আয়োজনে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত ছিল হিলসাইড হোন্ডা, উৎসব গ্রুপ ও সিলেক্ট ডিলার সার্ভিস। পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর হিসেবে ছিল আশা হোম কেয়ার ও গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার। প্ল্যাটিনাম স্পন্সর হিসেবে পাশে ছিল প্রেমস কালেকশন, ফ্রেশ ফুড, মোতেজেদি সিপিএ পি.সি. ও কেএ এক্সিডেন্ট ল অফিস অব কিম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস পি.সি.। গোল্ড স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেছে ওয়াও এক্সপ্রেস, জে১ ড্রাইভার্স ট্রেনিং, জমজম ট্রাভেল ইউএস, টেসলা টেক অটো বডি শপ, নুরুজ্জামান সরদার, তাসমিয়াহ এ. চৌধুরী ও জাকির এইচ. চৌধুরী, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, সরওয়ার খান, ধানসিঁড়ি, সিটি লাইন, বুন কাবাব ওয়ালা এবং কাবাব বয়েজ। এ ছাড়া মেলার গুডউইল পার্টনার ছিল বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন ও উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স। পুরো আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল এটিভি ইউএসএ, সাপ্তাহিক সাদা কালো, ঠিকানা ও সাপ্তাহিক আজ কাল এবং ইভেন্ট পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করে পালস ওয়েভ।