
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, গবেষক ও বিশ্লেষক মো. বায়েজিদ সরোয়ার, এনডিসি (অব.)।
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন পুরোপুরি নির্বাচনের ট্রেনে। নির্বাচন যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ। এখন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং গণতান্ত্রিতক শাসন ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করার জন্য অপরিহার্য শর্ত হয়ে উঠেছে। এই নির্বাচন কেবল সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নয়। বরং দেশের গণতন্ত্র স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
নির্বাচনের প্রচারণা পর্বের শুরুটা শান্তিপূর্ণ হলেও গত এক সপ্তাহের সহিংসতা ও শত্রুতামুলক প্রতিদ্বন্দীতা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে জনগণের মনে ভয় ও শঙ্কার জন্ম দিয়েছে। মনে হচ্ছে, আমরা পুরানো নির্বাচনী সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারি নাই। এই প্রবন্ধে বর্তমান নির্বাচন পরিবেশের দুর্বল কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করব।
বাংলায় আইন সভা বা পার্লামেন্ট গঠনের ইতিহাস
ব্রিটিশ আমলে বাংলার পার্লামেন্ট বা আইনসভার (বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল) যাত্রা শুরু হয় ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট-১৮৬১’র ভিত্তিতে ১৮৬২ সালের ১৮ জানুয়ারী কলকাতায় অবস্থিত ছোট লাটের সরকারী বাসভবন বেলভেডিয়ারে। ১৮৬২-১৮৯৩ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলে সদস্য নিয়োগ বা মনোনিত হতেন সম্পূর্ণভাবে লে. গভর্ণর তথা ছোট লাটের পছন্দ অনুযায়ী। ১৮৬২ সালে বাংলায় আইন সভা প্রতিষ্ঠিত লগ্নে কোন নির্বাচন ব্যবস্থা ছিল না। ব্রিটিশ রাজের মনোনয়নই ছিল আইন সভায় ঢোকার পথ এবং পন্থা।
সীমাবদ্ধ ও পরোক্ষ প্রতিনিধি নির্বাচনের এ পদ্ধতির মধ্যে দিয়েই কিন্তু বাংলায় প্রথম নির্বাচনী ইতিহাসের যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ১৮৮৫ সালে বাংলাদেশ অঞ্চলে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হয়। উল্লেখ্য তখন এশিয়ার খুব দেশেই নির্বাচন ও সংসদীয় সংস্কৃতি চালু ছিল। বাংলার আইন সভায় একটি গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। ১৮৯৪ সালে লন্ডন টাইমস পত্রিকায় বাংলার আইনসভাকে গুণগতদিক থেকে ইংল্যান্ডের আইনসভায় উচ্চকক্ষের সাথে তুলনা করেছিল। দুঃখজনকভাবে এর প্রায় ১৪০ বছর পর স্বাধীন বাংলাদেশে একটি অবাধও সুষ্ঠ নির্বাচন করতেই আমরা হিম-শিম খাচ্ছি।
উল্লেখ্য, আমাদের জাতীয় সংসদ ভবনটিকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকর্মগুলোর একটি ধরা হয়। এছাড়াও সংসদ ভবন হিসেবেও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভবন এটি। এই ভবনটির পরিকল্পনা ও ডিজাইন (১৯৬৪) করেছেন বিশ্ব বিখ্যাত স্থপতি লুই আই কান (১৯০১-১৯৭৪)। অথচ, আমরা এমন সংসদ ভবনের সম্মান রাখি নাই।
নির্বাচনকালীন সহিংসতা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। একটি গণতান্ত্রিক উত্তরণের অপেক্ষায় থাকা জাতির সামনে যখন উৎসবমুখর নির্বাচনের পরিবেশ থাকার কথা, তখন মাঠে পুলিশের ভেঙে পড়া মনোবল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত জনমনে ভয়াবহ শঙ্কা ও ভীতির সঞ্চার করছে। সম্প্রতি প্রকাশিত পুলিশের অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান এবং ঝিনাইগাতীতে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার নিহতের ঘটনা মূলত একটি গভীর সংকটেরই বহিঃপ্রকাশ।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, রাজনৈতিক সহিংসতা, কালো টাকার ব্যবহার এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে আয়োজন নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ইলেকশন ওয়াচিং অ্যালায়েন্স (ইডব্লিউএ)। গত ২৯ জানুয়ারী, রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত ‘নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে’ এ কথা বলা হয়।
আক্রমনাত্মক নির্বাচনী প্রচার
একসময় নির্বাচন সংক্রান্ত একটি মজার কথা প্রচলিত ছিল। “১০ টি হোন্ডা, ২০ টি গুন্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা...।” ২০২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পর জনগন আশা করেছিল যে, সর্বনাশা পুরোনো নির্বাচনি সংস্কৃতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসবো। সেই পরিস্থিতি ও সংস্কৃতির কিছুটা পরিবর্তন হলেও অনেকাংশেই আগের মতো রয়ে গেছে। নির্বাচনের আদর্শিক প্রতিযোগিতার পরিবর্তে পারস্পরিক দ্বন্দ, সংঘর্ষ, হাঙ্গামা এবং অর্থ ও পেশিশক্তির উপর নির্ভর করছে।
বাংলাদেশে এখন নির্বাচন প্রচারভিযানের জোয়ার চলছে। কিন্তু নির্বাচনি প্রচারনা সামগ্রিকভাবে ক্রমেই আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। বক্তৃতার ভাষায় প্রতিপক্ষকে আক্রমণ বা উসকানি, প্রতিপক্ষের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, পথসভায় বাধা দেওয়া এবং কর্মীদের মধ্যে মারমুখী আচরণ- এসব অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিশ্রুতি ও ইস্তেহারের বসন্ত
‘জনসেবকেরা’ নির্বাচনের জন্য ঘরে ঘরে ভোটারদের কাছে যাচ্ছে। বিচিত্র তাদের প্রতিশ্রুতি। প্রতিশ্রুতির কথা মালায় মানুষ বিমোহিত। সত্যি যদি প্রতিশ্রুতিগুলি সত্য হতো? এদেশে বিনোদন-বঞ্চিত মানুষের কাছে ‘ভোট’ হলো একটি উৎসব উচ্ছাসের আয়োজন। প্রাপ্তির খাতা শূণ্য হলেই বা কি। মানুষের আনন্দতো হচ্ছে।
নির্বাচনি প্রচারে দলগুলো তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলছেন। এতে মনে হয় দেশে ভবিষ্যতে দুধের নহর বইবে। তবে আশ্চর্য ব্যাপার হলো, নির্বাচনের আর মাত্র নয় দিন বাকি থাকলেও বড় দুটি দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামি এখনো তাদের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি ইস্তেহার প্রকাশ করেননি। ব্যপারটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক।
কেউ কথা রাখেনি:
ভোটের আগে বাংলাদেশের মানুষের কতো দাম, কত সম্মান? কারণ জনগণ ভোটের দিনে পাশা উল্টে দিতে পারে। ভোটাররা যেনো একদিনের বাদশা। যদিও ভোটের পর অনেক জনপ্রতিনিধিদের তাদের এলাকায় টিকিও দেখা যায় না। গত ৫৪ বছরের বাস্তবতায় ভোটাররা জানে যে, ভোট প্রার্থী রাজনীতিবীদদের প্রতিশ্রুতি খুব কমই বাস্তবায়িত হয়। তারা কথা রাখেন না। একজন সুরসিক (ভুক্তভোগি) নাগরিক কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে নকল করে তার ফেসবুকে লিখেছেন- “কেউ কথা রাখে নি, ৫৪ বছর কাটলো, কেউ কথা রাখেনা।”
নারীদের অংশগ্রহন
গত জুলাই বিপ্লবে নারীদের প্রসংশনীয় ভূমিকা ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে রাজনৈতিক দলগুলো খুব কম নারীকে তাদের দল থেকে নির্বাচনের টিকেট দিয়েছে। বিষয়টি জুলাই স্পিরিটের বিরোধী। বর্তমানে বাংলাদেশে পুরুষদের থেকে নারী ভোটার বেশি অথচ রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মুল্যায়ন করেনি। নারীদের ভোট পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো আকর্ষনীয় ঘোষণা দিচ্ছে। অন্যদিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নারী বিরোধী বক্তব্যও প্রচারিত হচ্ছে। রাজনীতির এ এক অদ্ভুত দ্বিচারীতা।
নির্বাচনের কিছু চ্যালেঞ্জ ও করনীয়
নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দায়িত্বে যেমন অন্তবর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর। সশস্ত্র বাহিনীরও এ ক্ষেত্রে গুরু দায়িত্ব রয়েছে। নির্বাচনী মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করা, আইন শৃংখলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপতথ্য, গুজব ও ডিপফেকের মতো হুমকি প্রতিহত করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আইন শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে শংঙ্কা ও উদ্বেগ আছে, অতিদ্রুত তা নিরসন করতে হবে। চোরাগুপ্তা হামলা, লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে হত্যাকান্ডের মতো ঘটনা প্রতিহতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সর্বোচ্চ সতকর্তা অবলম্বন করতে হবে। এবারের নির্বাচনে আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে সশস্ত্র বাহিনীসহ সব বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। সে ক্ষেত্রে আইন শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হলে কোন অজুহাতই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য যারা ছড়াবেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইসিকে কঠোর, দলকে দায়িত্বশীল হতে হবে
নির্বাচনের প্রচারণা পর্বের শুরুটা শান্তিপূর্ণ হলেও গত কয়েক দিনের সহিংসতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এ রকম সহিংসতা শেষ পর্যন্ত ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ভয় ও শঙ্কার জন্ম দেয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, অনিয়ম ও সহিংসতা বন্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও অন্তর্বর্তী সরকারকে এখন পর্যন্ত কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যায়নি। প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোও এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রশাসনের নিস্ক্রীয়তা মোটেও কাম্য নয়।
সুষ্ঠ নির্বাচনে সশস্ত্রবাহিনীর গুরুত্ব
নির্বাচনের প্রধান দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের (ইসি) হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ‘ফ্রন্টলাইনার’ হিসেবে দীর্ঘ সময় পর এবার মিলছে সশস্ত্র বাহিনীকে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২’ সংশোধন করা হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে আবারও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ চায়, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রাপ্ত সামরিক বাহিনীর অধিকতর সক্রিয় উপস্থিতি ও কার্যক্রম।সশস্ত্র বাহিনীকে কোনো ভাবেই ব্যর্থ হওয়া যাবে না।
ষড়যন্ত্র থেকে সাবধান। যেসব বিপদ আসতে পারে
বাংলাদেশে পার্শ্ববর্তী একটি দেশের গোপন তৎপরতা বন্ধ নেই। নানা ফন্দি-ফিকির করে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নাজুক করার তৎপরতা অব্যাহত থাকতে পারে। বর্তমানে রাষ্ট্রের ভঙ্গুরতাও নিরাপত্তা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ওসমান হাদির মতো গুপ্তহত্যাসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেতে পারে। এসব প্রতিহত করতে, শুধু প্রশাসন ও সরকার নয়, সমাজের সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। বিশেষত নির্বাচনকালে ও পরবর্তী সময়ে নারীও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
মনে রাখতে হবে, যে কোনো মূল্যেই হোক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এ মুহূর্তে যা করা প্রয়োজন তাই করতে হবে। এটা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই পারবে যে কোনো হীন পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিতে। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যই এখন খুব প্রয়োজন।
গণতন্ত্রের বসন্ত আসবে তো?
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় এবারের নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে অনেক স্বপ্ন রয়েছে। বিশেষত তরুন প্রজন্মের। ১৪ ফেব্রয়ারি হলো পহেলা ফাল্গুন। বসন্ত শুরুর দিন। ততোদিন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হবে। প্রকৃতিতে বসন্ত। বাংলাদেশের গণতন্ত্রে বসন্ত আসবে তো?
শেষের কথা
১৯৯০ দশকের প্রথম দিকে ভোটের ব্যাপারে একটি জনপ্রিয় শ্লোগান চালু ছিল। “আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব।” ১৯৯১ সহ পর পর অন্তত ৩ টি নির্বাচনে মানুষ মোটামুটি ইচ্ছা মতো ভোট দিতে পেরেছিল। এবারো এমন এক পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে মানুষ তাদের ইচ্ছা মত ভোট দিতে পারবে।
নতুন যাত্রা শুরু করতে অনেক কিছুর পরিবর্তন প্রয়োজন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিতে সহায়তা করতে হবে এবং ভোটের ফলাফল যাই হোক, সেটা জনগণের রায় হিসেবে মেনে নিতে হবে। ‘জিতলে নির্বাচন ভালো, হারলে খারাপ’ এই ধারণা পরিত্যাগ করতে হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারী সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায়। বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকাল পার করছে। একটি সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমুলক নির্বাচন দেশকে গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি পথ দেখাতে পারে।
সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এই নির্বাচনকে সফল করতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গঠনের নতুন পথ চলা শুরু হোক। এ মহাযাত্রা সবার।
লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, গবেষক ও বিশ্লেষক