
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে চোরাকারবারিদের হামলায় এক বিজিবি সদস্য আহত হয়েছেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে গুলিবর্ষণে নোমান আলী (৩২) নামে এক গরু চোরাকারবারি গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নোমান আলী হালুয়াঘাট উপজেলার বেতপুরী গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাঘাইতলা বাজারের ইজারাদার ছিলেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে উপজেলার তেলিখালী বিওপির আওতাধীন জলজলিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
৩৯ বিজিবির পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সোমবার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ হালুয়াঘাট উপজেলার তেলিখালী বিওপির সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক এক কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জলজলিয়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে পণ্য আটক করে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায়।
প্রথমে মৌখিকভাবে সতর্ক করার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণ করা হয়। এরপরও হামলা অব্যাহত থাকায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান বিজিবি সদস্যরা। এতে এক চোরাকারবারি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিজিবির কড়ইতলী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. আব্দুল কাদির জানান, নিহত নোমান আলী চোরাকারবারি ছিলেন। ভারতীয় গরু নিয়ে যাওয়ার সময় তেলিখালী ও কড়ইতলী সীমান্ত ফাঁড়ির যৌথ টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করলে চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এতে সদস্যরা আহত হন। এ সময় নায়েক রফিকের হাতে থাকা বন্দুক দিয়ে সতর্ক করার জন্য প্রথমে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। পরে চোরাকারবারি নোমান আবার রফিকের হাতে আঘাত করলে তার বন্দুক থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে গুলি বের হয়ে নোমান আহত হন। পরে তাকে হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।