১৮ বছরে প্রফেসর হয়ে গিনেস বুকে যুবক

ফিচার ডেস্ক
  ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩৫

 

বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপক হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার তরুণ প্রকৌশল শিক্ষক নাথান থমাস । ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই একটি কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, নাথান থমাস ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে মিয়ামি ডেড কলেজে প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপকের স্বীকৃতি পান।
এর আগে টানা ৩০৬ বছর ধরে এই রেকর্ডটি ছিল স্কটিশ গণিতবিদ কলিন ম্যাকলরিনের দখলে। তিনি ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হয়েছিলেন।
নাথান বর্তমানে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী অধ্যাপক আলিয়া সাবুরের চেয়েও ১৬ দিন কম বয়সে এই রেকর্ড গড়েছেন। আলিয়া সাবুর ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে অধ্যাপক হয়েছিলেন।
২০২৩ সালের আগস্টে নাথান মিয়ামি ডেড কলেজে ‘সি ফর ইঞ্জিনিয়ার্স’ (COP 2270: C for Engineers) কোর্স পড়ানো শুরু করেন। মজার বিষয় হলো, তার অনেক শিক্ষার্থীর বয়সও ছিল তার সমান।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে নাথান বলেন, শ্রেণিকক্ষে সবাই শেখার জন্যই আসে। তাই সেখানে বয়স খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। 
তিনি জানান, তার লক্ষ্য হলো নিজের দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করা এবং শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা। কেউ আন্তরিকভাবে শেখার চেষ্টা করলে সেটাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
একজন শিক্ষক হিসেবে নাথান তার শিক্ষার্থীদের কম্পিউটিং ও প্রোগ্রামিংয়ের জটিল বিষয়গুলো পড়ান।
অসাধারণ মেধার অধিকারী নাথান মাত্র ১০ বছর বয়সে মিয়ামি ডেড কলেজে বিশেষ ভর্তি (ডুয়াল এনরোলমেন্ট) হন। পরে ১৪ বছর বয়সে তিনি ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন। পরবর্তী চার বছরের মধ্যেই তিনি ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সম্মানসহ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
প্রকৌশলী পরিবারে বেড়ে ওঠা নাথান জানান, ছোটবেলা থেকেই গণিত তার কাছে সহজ মনে হতো। 
তিনি জানান, তার মা কঠিন বিষয়ও খুব সহজভাবে বুঝিয়ে দিতে পারতেন, যা তার শেখার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছে।
শিক্ষকতা সম্পর্কে নাথান বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী যখন অনেক চেষ্টা করার পর হঠাৎ কোনো কঠিন বিষয় বুঝে ফেলে, সেই মুহূর্তটিই তার কাছে সবচেয়ে আনন্দের।’

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি