
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) অভিযানে ১৭ জন মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় দেশটিতে ফৌজদারি তদন্তের দাবি জানিয়েছে মেক্সিকো। খরব সিএনএনের।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) মেক্সিকোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্তো ভেলাস্কো ঘোষণা করেছেন, ‘আমরা এখন আর কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকব না। কী ঘটেছিল তার একটি ফৌজদারি তদন্তের অনুরোধ জানাতে এসব ঘটনার অভিযোগ নিয়ে আমরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের কৌঁসুলিদের কার্যালয়ে যাব।’
ভেলাস্কোর মতে, নিহত ১৭ জন মেক্সিকান অভিবাসীর মধ্যে ১৪ জন আইসিই-এর হেফাজতে ছিলেন এবং বাকি তিনজনের মৃত্যু হয়েছে সংস্থাটির পরিচালিত অভিযানের সময়।
যেসব মার্কিন আটক কেন্দ্রে মেক্সিকান নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো পরিচালনাকারী বেসরকারি কোম্পানিগুলোর কাছেও মেক্সিকো আইনি নোটিশ পাঠাবে। ভেলাস্কো বলেন, এই চিঠিগুলো হলো এমন একটি আইনি প্রক্রিয়া... যার মাধ্যমে দেওয়ানি ব্যবস্থা নেওয়ার সূচনা হয়।
মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আটক সব অভিবাসী যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও সঠিক যত্ন পেয়ে থাকেন এবং আইসিই কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বলপ্রয়োগের প্রশিক্ষণ দেওয়া আছে। মেক্সিকোর এই পরিকল্পনার বিষয়ে মন্তব্য জানতে মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে সিএনএন।
আজকের এই ঘোষণা মেক্সিকো সরকারের জন্য একটি নতুন কৌশল। এসব মৃত্যুর ঘটনায় এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ১১টি কূটনৈতিক প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছে তারা। ভেলাস্কো জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত কেবল তদন্ত চলার কথাই বলে এসেছে।
অভিবাসন আইন প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত ঘটনায় সর্বশেষ নিহত মেক্সিকান নাগরিক হলেন লরেঞ্জো সালগাদো আরউহো। গত মঙ্গলবার ট্রাফিক পুলিশের তল্লাশির সময় আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে ৫২ বছর বয়সি এই ব্যক্তি নিহত হন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি গ্রেফতারে বাধা দিয়েছিলেন এবং ওই কর্মকর্তাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তাই ‘আত্মরক্ষার্থে’ তাকে গুলি করা হয়।
সালগাদো আরউহোর স্বজনরা তাকে একজন কঠোর পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন। তারা জানান, নম্বরবিহীন গাড়ি তাকে অনুসরণ করতে দেখে তিনি ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন।
তার মৃত্যুর দুই দিন পর, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম বৃহস্পতিবার জানান, এই ঘটনাগুলোকে তার সরকার ‘হত্যাকাণ্ড’ এবং ‘মানবাধিকারের লঙ্ঘন’ হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি ঘোষণা করেন, ‘আইসিই-এর অভিযানে বা তাদের চুক্তিবদ্ধ বেসরকারি কোম্পানি পরিচালিত আটক কেন্দ্রগুলোতে যেসব মেক্সিকান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রতি আমরা চোখ বন্ধ করে থাকতে পারি না।’
ভেলাস্কো জানান, মেক্সিকো আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের কাছেও আপিল করবে এবং আন্ত-আমেরিকান মানবাধিকার কমিশন ও জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধানের কাছেও অভিযোগ জমা দেওয়ার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে।