
পতিত সরকার লুটপাট করে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের অর্থনীতি যে সচল থাকল, তার কৃতিত্ব প্রবাসী বাংলাদেশিদের বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
শুক্রবার (১২ জুলাই) ভার্জিনিয়ার হলিডে ইন হোটেলে ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপি আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের কৃতিত্ব আরও একটু বেশি। কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছে ফ্যাসিস্ট সরকারের নিপীড়ন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের চিত্র তুলে ধরেছিল। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি, বাংলাদেশি-আমেরিকানদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, আপনারা মূলধারার রাজনীতি ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তাহলে দেশের প্রতি আরও বড়ভাবে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন।
‘এবারের বাজেট বৈষম্যহীন আঞ্চলিক উন্নয়নের সমতাভিত্তিক বাজেট’- উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ মানে বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্ল্যান। যার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সব মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চান এবং তা শুরু করেছেন।
ড. তিতুমীর বলেন, দেশের চরম সংকটময় সময়ে জণগণ তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছে। পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার লুটপাট করে পালিয়ে গেছে। রেখে গেছে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি। দেশের মানুষ আস্থা রেখেছেন তারেক রহমান তথা বিএনপির প্রতি। এর আবার একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র আছে। আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন, ১৯৭৫ সালের পরে একটি বিধ্বস্ত দেশ-অর্থনীতি, জনগণ যা মেরামতের দায়িত্ব দিয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপর। একইভাবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতনের পর জনগণ ধ্বংসযজ্ঞ অর্থনীতি মেরামতের দায়িত্ব দিয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার হাতে। জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা সেই দায়িত্ব দক্ষতা-যোগ্যতা-সততার সঙ্গে পালন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় লুটপাটে পঙ্গু করে দেওয়া অর্থনীতি মেরামতের দায়িত্ব জনগণ ভোটের মাধ্যমে তুলে দিয়েছেন তারেক রহমানের হাতে। তার মানে দেশের প্রতিটি সংকটময় সময়ে দেশের মানুষ আস্থা রেখেছে বিএনপির ওপর। জিয়া-খালেদার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানও জনআস্থার প্রতিদানে কাজ শুরু করেছেন এবং প্রথম দিন থেকে যা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
প্রধান অতিথির সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন জাহিদ খান, মিয়া মজনু,নয়ন বাঙালি, তুহিন প্রমুখ।
ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠান শেষ হয় মাঝরাতে, একটি প্রাণবন্ত প্রশ্ন-উত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে।