যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতে ট্রাম্পের H-1B ভিসার ১ লাখ ডলারের ফি বাতিল

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১০ জুন ২০২৬, ১৫:৫২

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশী কর্মীদের জনপ্রিয় 'H-1B' ভিসার আবেদন ফি ১ লাখ ডলার করার নীতি অবৈধঘোষণা করেছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। গত সোমবার (৮ জুন) বোস্টনের ডিস্ট্রিক্ট জজ লিও সোরোকিন একরায়ে জানান, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এককভাবে এমন বিশাল অংকের ফি বা কর আরোপের কোনো আইনি কর্তৃত্ব ট্রাম্পপ্রশাসনের নেই। এর ফলে ট্রাম্পের জারি করা বিতর্কিত নীতিটি পুরোপুরি বাতিল হয়ে গেল।
প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে 'অবৈধ ট‍্যাক্স' হিসেবে আখ্যা সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক নিযুক্ত বোস্টনের বিচারক লিও সোরোকিন তার রায়ে বলেন, "H-1B ভিসার আবেদনের ওপর এই ধরণের অতিরিক্ত ফি চাপানোর কোনো আইনি বা অর্পিত ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই।" ট্রাম্প প্রশাসন আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে এটি একটি 'নিয়ন্ত্রণমূলক ফি' যা কোনো প্রকার ট্যাক্স নয়। তবে আদালত এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এই অর্থের পরিমাণ এবং এর প্রয়োগের ধরণ বিশ্লেষণ করলে এটি পরিষ্কারভাবে একটি 'ট্যাক্স' এর সমতুল্য, প্রশাসন একে যে নামেই ডাকুক না কেন। কংগ্রেসের পূর্ব অনুমতি বা অনুমোদন ছাড়া নির্বাহী বিভাগ এককভাবে এই ট‍্যাক্স চাপাতে পারে না।
মামলার পটভূমি ও নেতিবাচক প্রভাব ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর (২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে) একটি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রোক্লেমেশনের মাধ্যমে নতুন H-1B ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে এই ১ লাখ ডলার ফি নির্ধারণের নিয়ম জারি করেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, এই কর্মসূচির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এর পর পরই, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ডেমোক্র্যাটিক দলপন্থী ২০টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের একটি জোট এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করে। তাদের দাবি ছিল, এই নিয়ম সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী এবং আইনবহির্ভূত।
সোমবার বিচারক সোরোকিন সেই রাজ্যগুলোর দাবির সাথে একমত পোষণ করে বলেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জনস্বাস্থ্য খাতগুলোতে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশী কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তারা বড় সংকটে পড়েছিল।
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দাবি করেছিল যে তারা কেবল প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছিল। কিন্তু বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্টের ঘোষণা কোনো সংস্থাকে 'অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ প্রসিডিউর অ্যাক্ট' লঙ্ঘন করার অবাধ লাইসেন্স দেয় না। নতুন নীতি চালুর সময় সরকার সেই হাজার হাজার মানুষের ভাগ্যের কথা বিবেচনা করেনি যারা এই আকস্মিক নীতি পরিবর্তনের কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
এই রায়ের ফলে মার্কিন প্রযুক্তি খাতসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগকর্তাদের মধ্যে বড় স্বস্তি ফিরে এসেছে। কারণ, পূর্বে প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানি এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি দক্ষ বিদেশী কর্মী স্পন্সর করার জন্য বিশাল আর্থিক বোঝা বহন করতে হচ্ছিল। তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, তা নিয়ে এখনো মার্কিন বিচার বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।