
ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটির ওপর একাধিক অজ্ঞাত ড্রোন উড়তে দেখা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফোর্ট লেসলি জে. ম্যাকনেয়ার-এর আকাশে সম্প্রতি এক রাতে একাধিক রহস্যময় ড্রোন শনাক্ত করা হয়। এই ঘাঁটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-এর সরকারি বাসভবন রয়েছে। খবর ফার্স্টপোস্টের।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ড্রোনগুলো কোথা থেকে এসেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।
এই ঘটনার পর ঘাঁটিটির নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং হোয়াইট হাউস পর্যায়েও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে দেশটির সামরিক বাহিনী আগে থেকেই উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ড্রোনের উপস্থিতি নিরাপত্তা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব ঘাঁটিতে ‘ফোর্স প্রোটেকশন লেভেল চার্লি’ জারি করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দেয়। সর্বোচ্চ স্তর ‘ডেল্টা’ কেবল তখনই জারি করা হয়, যখন হামলা আসন্ন বা চলমান থাকে।
ড্রোনের এই কার্যকলাপ এতটাই গুরুত্ব পেয়েছে যে, মার্কো রুবিও ও পিট হেগসেথ-কে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আনা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তাদের সরানো হয়নি।
পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে তাদের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি থেকে সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।