আইস আটক কেন্দ্রে বন্দি মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১২ মার্চ ২০২৬, ১৪:০৬

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) আটক কেন্দ্রে মৃত্যুর সংখ্যা এই দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত এক বছরে আইস নিয়ন্ত্রণে থাকা বন্দিদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বিপুলভাবে বেড়ে গেছে এবং ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। ২০২৫ সালে কমপক্ষে ত্রিশের বেশি মৃত্যু হয়েছে এবং এই বছরের শুরু পর্যন্ত আরও কয়েকজন বন্দি মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃতদের মধ্যে হাইতি, মেক্সিকো, কিউবা, ইরান, গুয়াতেমালা ও অন্যান্য দেশীয় নাগরিকরা রয়েছেন।
মৃত্যুর কারণগুলো বিভিন্ন ধরনের। ৫৬ বছর বয়সী এক হাইতিয়ান নাগরিক ইমানুয়েল ডামাস দাঁতের সংক্রমণের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং সেখানে সে সেপ্টিক শকে মারা যান। টেক্সাসের এক বন্দি কেন্দ্রের জেরালদো লুনাস ক্যাম্পোসকে নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের পরে মৃত ঘোষণা করা হয়, যা হত্যার রূপে নির্ণয় করা হয়েছে। এছাড়া হৃদরোগ, ঔষধ প্রত্যাহার ও অন্যান্য অজানা কারণে বন্দিরা মৃত্যুবরণ করেছেন। চিকিৎসা সেবা যথাযথভাবে না পাওয়ার কারণে অনেক মৃত্যুই প্রতিরোধযোগ্য ছিল বলে দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
আইস বন্দি কেন্দ্রগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। বন্দির সংখ্যা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রগুলোতে জায়গার ঘাটতি, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং পর্যাপ্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসক না থাকার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। সরকারি নজরদারি দপ্তরগুলোতে কর্মী কমে যাওয়ায় এবং কার্যক্রম সীমিত থাকায় নিহত বন্দিদের ঘটনা যথাযথভাবে তদন্ত হচ্ছে না। অনেক বন্দি চিকিৎসার জন্য আবেদন করলেও তা প্রায়ই সময়মতো দেওয়া হয় না।
কংগ্রেসের কিছু আইনপ্রণেতা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো আইস এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটিকে ডাক দিয়েছেন বন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। তারা বলছেন, বহু মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য ছিল যদি যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। সরকারি পক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী বন্দিদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া যায়, তবে বাস্তবতায় এই ব্যবস্থা অনেক জায়গায় ব্যর্থ হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
 আইস বন্দি কেন্দ্রে মৃত্যুর হার চরমভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নীতি, মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে নতুনভাবে প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে যদি যথাযথ নজরদারি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি না করা হয়।