যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্র‍্যান্ট ডিটেনশন কেন্দ্র বিস্তারে ৩৮.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের উদ্যোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪২

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা- আইস  দেশজুড়ে ডিটেনশন কেন্দ্র নির্মাণ, ক্রয় ও সংস্কারে ৩৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে। এ তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স । নিউ হ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের গভর্নর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, তাদের অনুসন্ধানের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট এই পরিকল্পনার নথি সরবরাহ করেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬টি বিদ্যমান ভবন ক্রয় করে সেগুলো সংস্কার করে আঞ্চলিক ডিটেনশন ও প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে এক হাজার থেকে এক হাজার পাঁচশ জন পর্যন্ত অভিবাসীকে গড়ে তিন থেকে সাত দিন রাখা যাবে। পাশাপাশি আটটি বৃহৎ আটক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যেখানে সাত হাজার থেকে দশ হাজার জন পর্যন্ত অভিবাসীকে গড়ে প্রায় দুই মাস পর্যন্ত রাখা সম্ভব হবে। বিদেশে প্রত্যাবাসনের আগে এসব কেন্দ্রই হবে প্রধান অবস্থান। এছাড়া আরও দশটি প্রস্তুত স্থাপনা অধিগ্রহণের কথাও উল্লেখ রয়েছে, যেখানে সংস্থাটি ইতোমধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বারো হাজার অতিরিক্ত কর্মকর্তা নিয়োগের ফলে গ্রেপ্তার বৃদ্ধি পেতে পারে—সে সম্ভাবনা সামনে রেখে আটক অবকাঠামো সম্প্রসারণ জরুরি বলে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন কেন্দ্রগুলোতে আবাসিক কক্ষ, বিচারকক্ষ, চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা সেবা, খাদ্যব্যবস্থা, দর্শনার্থী কক্ষ এবং বিনোদনের স্থান থাকবে, যাতে আটক ব্যক্তিদের জন্য নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
এই ব্যয়ের অর্থ আসবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে কংগ্রেসে পাস হওয়া বৃহৎ ব্যয় আইনের মাধ্যমে, যেখানে অভিবাসন প্রয়োগ জোরদারে মোট ১৭০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ বিলিয়ন ডলার নির্ধারিত রয়েছে আটক ব্যবস্থার জন্য। তুলনায়, ২০২৪ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ২০২৬ সালের নভেম্বর নাগাদ সংস্থাটির মোট ধারণক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ৯২ হাজার ৬০০ শয্যায়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প  দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে নজরদারি ও গ্রেপ্তার বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর থেকে সংস্থাটির হেফাজতে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৬৮ হাজারের বেশি হয়েছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক বিতর্ক বাড়লেও প্রশাসন অভিবাসন প্রয়োগ আরও জোরদার করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।