
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে পারে, কারণ ধারাবাহিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর এখন লক্ষ্যবস্তু হিসেবে “প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই।”
বুধবার সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, সামরিক অভিযান প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা অনেকটাই তার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, “অল্প কিছু বাকি আছে। আমি যখনই চাইব, তখনই যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত এগোচ্ছে। তার ভাষায়, “যুদ্ধ খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে। আমরা নির্ধারিত সময়সূচির অনেক আগেই এগিয়ে আছি। ছয় সপ্তাহের যে পরিকল্পনা ছিল, তার মধ্যেই আমরা ধারণার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করতে পেরেছি।”
বর্তমানে সংঘাতের একাদশ দিনে পৌঁছেছে যুদ্ধ। এ সময়ে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এ অভিযানের সময়সীমা ও লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ চলতে পারে। পরে সোমবার তিনি জানান, অভিযান “প্রায় শেষ” এবং শিগগিরই শেষ হবে। তবে পরদিন তিনি আবার হামলা বাড়ানোর হুমকি দেন, যখন খবর আসে যে ইরান হরমুজ প্রণালীতে নৌমাইন পেতে শুরু করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, মঙ্গলবার প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, ইরান বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে কিছু নৌমাইন স্থাপন শুরু করেছে। যদিও কর্মকর্তারা জানান, মাইনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
ট্রাম্প জানান, মঙ্গলবারের মার্কিন হামলায় ইরানের ১৬টি মাইন পাতা নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে তেহরানের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে।
তবে যুদ্ধ শিগগির শেষ হতে পারে বলে ট্রাম্প মন্তব্য করলেও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে। তিনি বলেন, “যুদ্ধ কোনো সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সব লক্ষ্য অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয় না পাওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।”
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “শত্রু পুরোপুরি ও চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী অভিযান চালিয়ে যাবে।”
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা নষ্ট করা। তবে ইরানে সরকার পরিবর্তন বা দেশটির পারমাণবিক মজুদ ধ্বংস করার বিষয়টি আপাতত প্রধান লক্ষ্য নয় বলে তারা জানিয়েছেন।
বুধবার এক ভিডিও বার্তায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের ভেতরে পাঁচ হাজার পাঁচশরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে ৬০টির বেশি জাহাজ রয়েছে।
তিনি বলেন, “মার্কিন সামরিক শক্তি বাড়ছে, আর ইরানের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত কমছে। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—ইরান যেন আমেরিকান নাগরিক ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে না পারে।”
কুপার আরও জানান, মঙ্গলবার ইরানের বিভিন্ন স্থানে প্রায় প্রতি ঘণ্টায় বিভিন্ন দিক থেকে হামলা চালানো হয়েছে এবং অন্তত চারটি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টার পর থেকেই ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরান ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলো থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
অ্যাডমিরাল কুপার বলেন, “মার্কিন বাহিনী ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামরিক আঘাত হানতে থাকছে। গত রাতেই আমাদের বোমারু বিমান বাহিনী ইরানের একটি বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কারখানায় হামলা চালিয়েছে।”