যুক্তরাষ্ট্রে আইস হেফাজতে তিন মাসে ১১ অভিবাসীর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১১ মার্চ ২০২৬, ১৪:৪১

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা অবস্থায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে অন্তত ১১ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের একাধিক আটক কেন্দ্র থেকে এসব মৃত্যুর ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আটক কেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা, মানসিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এমন ঘটনা ঘটছে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসের তত্ত্বাবধানে থাকা ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে অভিবাসীদের আটক রাখা হয়, যাদের অনেকেই অভিবাসন সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকেন। এসব কেন্দ্রেই সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত আইস পরিচালিত বা চুক্তিভিত্তিক পরিচালিত আটক কেন্দ্রে এই ১১ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। তাদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে আটক অবস্থায় ছিলেন এবং কেউ কেউ অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আটককেন্দ্রে থাকা অভিবাসীদের চিকিৎসা সেবা অনেক সময় যথাসময়ে দেওয়া হয় না। আবার মানসিক চাপ, অনিশ্চয়তা এবং দীর্ঘদিন আটক থাকার কারণে অনেকের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে। এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা জরুরি বলে তারা দাবি করছে।
আইস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই তারা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। নিয়ম অনুযায়ী কোনো আটক ব্যক্তির মৃত্যু হলে তা প্রকাশ করা হয় এবং কারণ অনুসন্ধানে অভ্যন্তরীণ তদন্তের পাশাপাশি কখনও স্বাধীন তদন্তও করা হয় বলে সংস্থাটি দাবি করেছে।
তবে অভিবাসী অধিকারকর্মীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতির কঠোরতা এবং আটক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাদের মতে, অভিবাসীদের দীর্ঘদিন আটক রাখার পরিবর্তে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে মানবিক সংকট কিছুটা কমতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি এবং আইসিই পরিচালিত আটককেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে দেশটির রাজনীতি ও মানবাধিকার মহলে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। বিশেষ করে আটক ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠন বারবার উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আইসিই হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা অভিবাসন নীতি ও ডিটেনশন ব্যবস্থার ওপর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার মানবিক দিকগুলো আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার দাবি জোরালো হতে পারে।