জাতিসংঘের সতর্কতা : হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বাড়বে খাদ্যপণ্যের

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসালে ইরান নজিরবিহীন পরিণতি ভোগ করবে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:৫২
আপডেট  : ১১ মার্চ ২০২৬, ১৩:০৭

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন করলে ইরানকে নজিরবিহীন সামরিক পরিণাম ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে এই হুমকি দেন তিনি।
ট্রাম্পের পোস্টের আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়, ইরান হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসানো শুরু করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র এবং মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্যকে উদ্ধৃত করে সিএনএন প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছিল।
এর আগে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী নৌযান ধ্বংস করার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক বিবৃতিতে এই দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি প্রণালিতে কোনো মাইন পেতে থাকে, তবে সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে ১০টি নিষ্ক্রিয় মাইনবাহী নৌযান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন পেতে থাকে, তাহলে আমরা চাই সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হোক। যদিও আমাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই।
ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি লিখেছেন, যদি কোনো কারণে সেখানে (হরমুজ প্রণালি) মাইন বসানো হয়ে থাকে এবং তা অবিলম্বে সরিয়ে না নেওয়া হয়, তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে এমন মাত্রায় সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।
ট্রাম্প আরও লিখেছেন, তিনি এখন পর্যন্ত এমন কোনো খবর পাননি যে ইরান সত্যিই হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসিয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, তেহরান যদি সত্যিই সেখানে ভাসমান বিস্ফোরক মাইন বসিয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো ‘অবিলম্বে’ সরিয়ে ফেলতে হবে।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যায়। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো উপসাগরীয় দেশের তেল পার হতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রেখেছে ইরান।
সূত্র: আল-জাজিরা

জাতিসংঘের সতর্কতা : হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বাড়বে খাদ্যের দাম, বেশি প্রভাব পড়বে এশিয়ায়
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে এবং এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব এশিয়া মহাদেশে পড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ইউএনসিটিএডি। 
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, প্রণালিটি বন্ধ হলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে এশিয়ায়। কারণ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত পণ্যের প্রায় ৮৪ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোতে যায়।
প্রতিবেদনে ইউএনসিটিএডি বলেছে, জ্বালানি, সার ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব খাদ্যের দামের ওপর পড়তে পারে। এতে বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ আরও বাড়তে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের ৩৮ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি বিশ্বের ২৯ শতাংশ তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও ১৯ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই জলপথ দিয়েই যায়।
ইউএনসিটিএডির বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, বিশ্বে জাহাজে করে পরিবহন করা মোট সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশও হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সূত্র: আল-জাজিরা