যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংক গ্রাহকদের নাগরিকত্ব যাচাই বাধ্যতামূলক করার চিন্তা ট্রাম্প প্রশাসনের

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪১

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ গ্রাহকদের নাগরিকত্ব যাচাই করতে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করার একটি নতুন নির্দেশনা বিবেচনা করছে। প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা সিএনএন এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।  
সূত্রগুলোর ভাষ্য, সম্ভাব্য এই পদক্ষেপটি নির্বাহী আদেশের (এক্সিকিউটিভ অর্ডার) মাধ্যমে কার্যকর হতে পারে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি, তবে তা হলে ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের কাছ থেকে পাসপোর্টসহ নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি চাইতে হতে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একেবারেই নজিরবিহীন।
বর্তমানে মানি লন্ডারিংবিরোধী ও ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ নীতির আওতায় ব্যাংকগুলো গ্রাহকের ঠিকানা ও পরিচয় যাচাই করে, কিন্তু নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহ বা যাচাই বাধ্যতামূলক নয়। নতুন নির্দেশনা জারি হলে শুধু নতুন গ্রাহকই নয়, পুরোনো গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট একটি আর্থিক খাতের সূত্র।
এক শিল্প–সংশ্লিষ্ট সূত্র সিএনএনকে বলেছে, “প্রতিটি ব্যাংক গ্রাহকের নাগরিকত্ব যাচাই করা কার্যত অসম্ভব ও অকার্যকর হবে।” তাদের আশঙ্কা, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হতে পারে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলোকে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত করা।
তবে হোয়াইট হাউস সম্ভাব্য নির্বাহী আদেশের বিষয়টি নিশ্চিতও করেনি, অস্বীকারও করেনি। এক বিবৃতিতে মুখপাত্র বলেছেন, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া সম্ভাব্য নীতিনির্ধারণ নিয়ে যে কোনো প্রতিবেদনই “ভিত্তিহীন অনুমান।”
অভিবাসন–কেন্দ্রিক কড়াকড়ির প্রেক্ষাপটে এর আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিএনএনের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আইআরএস –এর প্রায় ৫০ জন জ্যেষ্ঠ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মকর্তা—যাদের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞও ছিলেন—প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়, যখন করদাতাদের তথ্য ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ভাগাভাগির পরিকল্পনা চূড়ান্ত হচ্ছিল। পরে এক ফেডারেল বিচারক সেই উদ্যোগ স্থগিত করেন। ট্রেজারি বিভাগ তখন বলেছিল, ছুটিতে পাঠানোর সঙ্গে অভিবাসন প্রয়োগে আইআরএস তথ্য ব্যবহারের কোনো সম্পর্ক নেই।
এর মধ্যেই প্রশাসন “কনজারভেটিভদের ডি-ব্যাংকিং” ইস্যুতে ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়েছে। ধর্মীয় বা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে সেবা সীমিত করলে ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে গত বছর একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।
এছাড়া ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল হামলার পর তাকে গ্রাহক তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় জে পি মরগান চেইজ –এর বিরুদ্ধে সম্প্রতি মামলা করেছেন ট্রাম্প। ব্যাংকটি জানিয়েছে, ওই মামলার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। নাগরিকত্ব যাচাই–সংক্রান্ত সম্ভাব্য এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে—এবং অভিবাসন নীতিকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।