যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ দানবীর

ফিচার ডেস্ক
  ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:১০

যুক্তরাষ্ট্রে ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ দানে নজরকাড়া উদার, আবার কেউ তুলনামূলক কম দান করলেও দাতব্য কাজে ভূমিকা রাখছেন। 
২০২৫ সালের তথ্যানুযায়ী, দাতাদের মোট দানের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ জন দাতা হলেন—

১. ওয়ারেন বাফেট
১৪ হাজার ৭২০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক ওয়ারেন বাফেট যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে উদার দাতা। ২০২৫ সালে নিয়মিত শেয়ার দান ও পরিবারের দাতব্য সংস্থাগুলোকে মোট ৭০০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। তিনি জীবদ্দশায় দান করেছেন ৬৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। যা তার নিজ সম্পদের অনুপাতে দান ৩২ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য নিরসনে তিনি দান করে থাকেন।

২. বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস
১৩ হাজার ৮১০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস দম্পতি। ২০২৪ সালে বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ১৩০ কোটি ডলার দান করেছেন। দম্পতি জীবদ্দশায় দান করেছেন ৫২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। যা তাদের সম্পদের অনুপাতে দান ২৮ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্য নিরসনে দম্পতির যৌথ দান মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে হয়েছে। 

৩. ম্যাকেঞ্জি স্কট
ম্যাকেঞ্জি স্কট ২০১২ সাল থেকে বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিশাল দান দিয়েছেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮টি ঐতিহাসিক কৃষ্ণাঙ্গ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে অন্তত ৭৬ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছেন। ২ হাজার ৮৫০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক ম্যাকেঞ্জি স্কট জীবদ্দশায় দান করেছেন ২৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। যা তার নিজ সম্পদের অনুপাতে দান ৪৬ শতাংশ। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সমতা বজায়ে তিনি দান করে থাকেন।

৪. মাইকেল ব্লুমবার্গ
জাতিসংঘের জলবায়ুদূত মাইকেল ব্লুমবার্গ শিক্ষাক্ষেত্র ও পরিবেশ রক্ষায় বিপুল দান দিয়েছেন। ২০২৫ সালে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে ৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা প্রদান করেছেন। ১০ হাজার ৯৪০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক মাইকেল ব্লুমবার্গ জীবদ্দশায় দান করেছেন ২৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। যা তার নিজ সম্পদের অনুপাতে দান ১৯ শতাংশ। 

৫. জর্জ সোরোস
জর্জ সোরোসের ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন বিচার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করে। ২০২৪ সালে গুরুত্বপূর্ণ অনুদানগুলো দেওয়া হয়েছে বারাক ওবামা ফাউন্ডেশন, সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি এবং ওয়েস্ট আফ্রিকা ডেমোক্রেসি রেডিওকে। ৭৪০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক জর্জ সোরোস জীবদ্দশায় দান করেছেন ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। যা তার নিজ সম্পদের অনুপাতে দান ৭৬ শতাংশ।

৬. ম্যারিলিন সাইমনস ও পরিবার
ম্যারিলিন সাইমনস নতুন গবেষণা তহবিল গঠন ও পরিবেশগত প্রভাব ও স্নায়ুবিজ্ঞানের সম্পর্ক নিয়ে বিনিয়োগ করছেন। ৩ হাজার ২৫০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক ম্যারিলিন সাইমনস জীবদ্দশায় দান করেছেন ১ হাজার ৩০ কোটি ডলার। যা তাদের নিজ সম্পদের অনুপাতে দান ২৪ শতাংশ। বিজ্ঞান ও গণিতক্ষেত্র অবদানে দান করে থাকেন।

৭. স্টিভ বলমার ও কনি বলমার
১৪ হাজার ১০০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক বলমার গ্রুপ জীবদ্দশায় দান করেছেন ৬৫০ কোটি ডলার। যা তাদের নিজ সম্পদের অনুপাতে দান ৪ শতাংশ। অর্থনৈতিক গতিশীলতা আনায়নে তিনি দান করে থাকেন। বলমার গ্রুপ প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা ও দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত শিশু ও পরিবারের জন্য বরাবর অনুদান দেয়। 

৮. মার্ক জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান
জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান এআইভিত্তিক জীববিজ্ঞানে বিনিয়োগ করছেন। ২০২৫ সালে ৪০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান প্রদান করেছেন। ২১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক জাকারবার্গ ও প্রিসিলা চ্যান জীবদ্দশায় দান করেছেন ৬১০ কোটি ডলার। যা তাদের নিজ সম্পদের অনুপাতে দান ৩ শতাংশ।

৯. সের্গেই ব্রিন
সের্গেই ব্রিন পারকিনসনস রোগের গবেষণায় ২২০ কোটি ডলার দান করেছেন। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত অলাভজনক সংস্থাগুলোকে সহায়তা দিয়েছেন। ২৩ হাজার ৮২০ কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক সের্গেই ব্রিন জীবদ্দশায় দান করেছেন ৫১০ কোটি ডলার। যা তার নিজ সম্পদের অনুপাতে দান ২ শতাংশ। 

১০. জেফ বেজোস ও লরেন সানচেজ বেজোস
বেজোস আর্থ ফান্ড ও ডে ১ ফ্যামিলিস ফান্ডের মাধ্যমে জলবায়ু ও গৃহহীনতা মোকাবিলায় বিপুল দান করেছেন। ২৫ হাজার কোটি ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক জেফ বেজোস ও লরেন সানচেজ বেজোস জীবদ্দশায় দান করেছেন ৪৭০ কোটি ডলার। যা তাদের নিজ সম্পদের অনুপাতে দান ২ শতাংশ। 

যদিও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক ও ল্যারি পেজের মিলিত সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি, দানের পরিমাণ তুলনামূলক কম হওয়ায় তারা এই তালিকায় নেই।