
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। দেশের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম সিরিজে হারাল টাইগাররা।
টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। আজ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটে বলের দারুণ পারফরম্যান্সে ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ।
ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলতি সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৮৬ রানে জয় লাভ করে বাংলাদেশ। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেটের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করে মেহেদি হাসান মিরাজরা।
এর আগে ২০০৫ সালে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ওয়ানডেতে হারায় বাংলাদেশ। ২১ বছর পর চলতি সিরিজে দীর্ঘদিনের সেই খরা কাটানোর পাশাপাশি সিরিজ জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।
আজ বৃহস্পতিবার টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া।
বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে ৪১ ওভারে ১৯২ রানের টার্গেট তাড়ায় ৩৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।
দলের জয়ে ৪২ রান করে করেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪০ ও ২২ রানে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়েন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া করে ৪২ ওভারে ১৮৭ রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন মার্নাস লাবুশেন। তিনি ৮৫ বলে তিন বাউন্ডারিতে ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ৪৮ বলে চারটি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন জেভিয়ার বার্টলেট।
বাংলাদেশ দলের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। ২ উইকেট নেন তানভির ইসলাম।
বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান। জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমেই ইনিংসের দ্বিতীয় বলে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এরপর দলের হাল ধরেন সৌম্য সরকার ও নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে তারা ৯৩ বলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন। দলীয় ৮৬ রানে আউট হয়ে ফেরেন দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা সৌম্য সরকার। তিনি ৪৭ বলে ৫টি চার আর দুটি ছক্কার সাহায্যে ৪২ রান করে আউট হন।
সৌম্য আউট হওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নামেন লিটন দাস। তার সঙ্গে জুটি গড়ার আগেই আউট হয়ে যান নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি দলীয় ৯৮ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন। তার আগে ৫৩ বলে ৫টি বাউন্ডারির সাহায্যে করেন ৪২ রান।
দলীয় ১২২ রানে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন লিটন কুমার দাস। তিনি ১৮ বলে ২১ রান করে আউট হন। দলীয় ১৪৪ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন আগের ম্যাচে ম্যাচসেরা হওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তিনি ১৪ বলে ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি।
ষষ্ঠ উইকেটে ৪৯ বলে ৫১ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তাওহীদ হৃদয় ও মেহেদি হাসান মিরাজ। দলের জয়ে ৫৫ বলে দুই চার আর এক ছক্কায় ৪০ রান করেন হৃদয়। ২২ বলে এক চার আর এক ছক্কায় ২২ রান করেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ।