এবারের বিশ্বকাপ অনন্য বিশ্বকাপ

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১১ জুন ২০২৬, ১৪:২০

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মহাযজ্ঞ। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ শুধু আরেকটি আসর নয়, এটি হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও আলোচিত বিশ্বকাপ। প্রথমবারের মতো অংশ নেবে ৪৮টি দল। তার ওপর আয়োজক হবে তিনটি দেশ, থাকছে তীব্র গরম নিয়ে উদ্বেগ, এমনকি ফাইনালে দেখা যাবে সুপার বোলের আদলে হাফটাইম শোও। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বাইরে আয়োজন, প্রযুক্তি ও বিনোদনের নতুন মাত্রা যোগ করে বিশ্বকাপকে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতায় রূপ দিতে চাচ্ছে ফিফা। 
এবার দেখে নেওয়া যাক ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ ঠিক কী কারণে অনন্য হতে যাচ্ছে- 
১. প্রথমবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪৮টি দল অংশ নেবে। কাতার বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ৩২টি দল। নতুন কাঠামোয় ৪৮ দলকে ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল।
যার ফলে ম্যাচের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২ বিশ্বকাপে যেখানে ম্যাচ ছিল ৬৪টি, সেখানে ২০২৬ বিশ্বকাপে ম্যাচ হবে ১০৪টি।
টুর্নামেন্টের সময়কালও বাড়ানো হয়েছে। এবার ৩৯ দিনব্যাপী চলবে বিশ্বকাপ। 
২. একই বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ
বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে পুরুষদের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। আয়োজক তিন দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। উত্তর আমেরিকার ১৬টি শহরে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১টি ভেন্যু যুক্তরাষ্ট্রের, মেক্সিকোর ৩টি ও কানাডার ২টি। কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে শুরু করে সব নকআউট ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়াম বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে। ১৯৭০ ও ১৯৮৬ সালের পর ২০২৬ সালেও এই স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এটি হবে পুরুষদের বিশ্বকাপের তিনটি ভিন্ন আসরে ম্যাচ আয়োজন করা বিশ্বের প্রথম স্টেডিয়াম। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে এখানেই। আজতেকা স্টেডিয়াম দুটি স্মরণীয় বিশ্বকাপ ফাইনালেরও সাক্ষী। ১৯৭০ সালে পেলের নেতৃত্বাধীন ব্রাজিল এবং ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা এখানে শিরোপা জিতেছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে সম্প্রতি স্টেডিয়ামের বাইরে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলের একটি বড় ভাস্কর্যও স্থাপন করেছে মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ।
২০২৬ বিশ্বকাপে আলোচনার অন্যতম বড় বিষয় হতে পারে গরম। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের (ডব্লিউডব্লিউএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ম্যাচে এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে অতিরিক্ত গরম খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে মায়ামি, কানসাস সিটি ও ফিলাডেলফিয়ার মতো শহরগুলো জুন ও জুলাই মাসে উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার ঝুঁকিতে থাকবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুলিং ব্রেকসহ বিভিন্ন সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা বিবেচনা করছে ফিফা।
এবার বিশ্বকাপ ফাইনালের হাফটাইমে সংগীতানুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ক্রীড়া আয়োজন সুপার বোলের আদলে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় ক্রীড়া, কনসার্ট কিংবা বড় আয়োজনের অন্যতম ভেন্যু হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া বিশ্বকাপের ইতিহাসে ফাইনালের বিরতিতে সংগীত পরিবেশনের ঘটনা এবারই প্রথম হতে যাচ্ছে। এর আগে বিনোদনমূলক আয়োজন সাধারণত উদ্বোধনী বা সমাপনী অনুষ্ঠান এবং ম্যাচ শুরুর আগেই সীমাবদ্ধ ছিল। ফিফার দেওয়া তথ্য অনুসারে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য ফাইনালের বিরতিতে পারফর্ম করবেন পপ জগতের বিখ্যাত তারকা ম্যাডোনা, শাকিরা এবং কে-পপ তারকা ব্যান্ড বিটিএস। পুরো আয়োজনটির দায়িত্বে থাকছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড কোল্ডপ্লের তারকা ক্রিস মার্টিন।