
বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনো বাকি ৪৪ দিন। কিন্তু এরই মধ্যে অংশগ্রহণকারী দল আর ফ্যানদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি । যেখানে প্রথম রাউন্ডেই খেলতে আসবে ব্রাজিল-জার্মানী-ইংল্যান্ডের মতো দল। তিন দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে আয়োজিত টুর্নামেন্টের ফাইনালও হবে হবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। ফলে সিটিতে বিশ্বকাপ আয়োজনকে স্মরণীয় করে রাখতে চান নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি।
সোমবার স্টেটেন আইল্যান্ড ইউনিভার্সিটি হসপিটাল কমিউনিটি পার্কে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানি ঘোষণা করেছেন পাঁচটি বরোতে বিনামূল্যে ফ্যান ইভেন্টের আয়োজন করতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সির হোস্ট কমিটি। যেটি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম ফ্রি ফ্যান ইভেন্ট। নিউ ইয়র্ক সিটির প্রতিটি প্রান্তের মানুষদের নিয়ে আসার এই উদ্যোগটি ফুটবল প্রেমীদের জন্য একটি বিশাল উপহার বলে মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল, নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ হোস্ট কমিটি’র সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে গভর্নর ক্যাথি হোকুল জানান, এই উদ্যোগটিকে এমনভাবে তুলে ধরা হবে যাতে প্রায় ১২ লাখ দর্শণার্থী আগমন এবং টুর্নামেন্ট থেকে ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা হতে পারে।
সিটির বিশ্বকাপ বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মায়া হান্ডা বলেন, প্রথম দিন থেকেই মামদানির প্রশাসনের অগ্রাধিকার ছিল খরচ সামর্থ্যের মধ্যে রাখা এবং নিশ্চিত করা যে ৮০ লাখ নিউইয়র্কবাসী এই টুর্নামেন্ট থেকে উপকৃত হতে পারে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।
এই ঘোষণার মাধ্যমে মামদানি ও হোকুল ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলকে তাদের ‘অ্যাফোর্ডেবিলিটি’ বার্তার সঙ্গে দৃশ্যমানভাবে যুক্ত করার সুযোগ পেলেন। এমন সময়ে এই ঘোষণা এলো, যখন ফিফা টিকিটের উচ্চ মূল্য, রিসেল মার্কআপ এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের জনসাধারণের খরচ নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে। সিটির পাঁচটি বরো ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, ম্যানহাটন, কুইন্স এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে অফিশিয়াল ফ্যান ইভেন্ট উৎসবের আয়োজন করা হবে। যেখানে ম্যাচ লাইভ দেখা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন ইন্টারঅ্যাক্টিভ অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে কোনো টাকা লাগবে না। ঐতিহাসিক আয়োজনের পাশাপাশি এই ইভেন্টগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় ছোট ব্যবসাগুলো উপকৃত হবে এবং কমিউনিটির মাঝে সংহতি বাড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।