ইসরায়েলের কাছে রেকর্ড পরিমাণ ধ্বংসাত্মক বোমা বিক্রির পরিকল্পনা ট্রাম্পের

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪৪

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার এক বিশাল চালান বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কয়েক বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিতর্কিত এই সমরাস্ত্রের সবচেয়ে বড় একক চালান হতে যাচ্ছে বলে খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, ২৮০ কোটি ডলারের এই অস্ত্র চুক্তির আওতায় দুই হাজার পাউন্ড ওজনের ৪০ হাজার বোমা দেওয়া হবে, যার মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা।
এছাড়া এই বিক্রয় তালিকায় ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেডও থাকছে।
পশ্চিমা সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম ধ্বংসাত্মক এই এমকে-৮৪ বোমা বিস্ফোরণের পর এর ধাতব টুকরোগুলো কয়েক হাজার ফুট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এটি পুরু কংক্রিট ও লোহা ভেদ করতে পারে এবং মাটিতে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি করে।

বিএলইউ-১১৭ বোমা হল এমকে-৮৪ এর একটি বিশেষ রূপ। এতে তাপ প্রতিরোধী প্রলেপ থাকে, যা নৌবাহিনীর গুদামে নিরাপদে সংরক্ষণের উপযোগী। আর আই-২০০০ বোমা ভূগর্ভস্থ বা সুরক্ষিত কাঠামো ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়।
এসব অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা এবং দুই দেশের সম্পর্কে নজিরবিহীন টানাপড়েনের মধ্যে এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে।
যদিও এটিকে 'বিক্রি' বলা হচ্ছে, বাস্তবে 'ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং'-এর মাধ্যমে এই লেনদেনের অর্থায়ন করা হচ্ছে। অর্থাৎ, যে অর্থে ইসরায়েল এই অস্ত্র কিনবে, তা যুক্তরাষ্ট্রই তাদের সরবরাহ করবে। আর তা মেটানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে।
এ বিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, "বিদেশে অস্ত্র বিক্রির সব সিদ্ধান্তই যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে। আমরা প্রক্রিয়াধীন কোনো বিষয় নিয়ে মন্তব্য করি না।"
এ বিষয়ে ইসরায়েলি দূতাবাসও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
এই চুক্তির আকার বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসনের আগের সব ২ হাজার পাউন্ডের বোমা বিক্রির রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
এর আগে ২০২৫ সালে কংগ্রেসের সাধারণ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে ২.০৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বিতর্কিত চালান পাঠিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
গাজা ও লেবাননে শত শত বার ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ওইসব বোমা ব্যবহার করেছে ইসরায়েল, যা বিপুল প্রাণহানির অন্যতম কারণ।
গাজায় নিজেদের ঘোষিত নিরাপদ অঞ্চলেও নিয়মিত এমকে-৮৪ বোমা ফেলেছে ইসরায়েল, যা নিয়ে তারা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ট্রেভর বল বলেন, কোনো ভবনে হামলা করতে চাইলে তারা এ বোমা ব্যবহার করতে পছন্দ করে। কারণ একটি এমকে-৮৪ বোমা পুরো ভবনটি ধসিয়ে দিতে পারে।