মার্কিন কারাগার থেকে সমর্থকদের কী বার্তা দিলেন মাদুরো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  ২৯ মার্চ ২০২৬, ২৩:৩৮

ভেনেজুয়েলার অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস মার্কিন কারাগার থেকেই সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন। গত জানুয়ারিতে এক রাতের হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার এই দম্পতি শনিবার (২৮ মার্চ) অনলাইনে এ বার্তা দেন। তারা জানিয়েছেন যে, তারা ‘অটল’ ও ‘শান্ত’ আছেন।
কারাকাসে তাদের কম্পাউন্ড থেকে মার্কিন কমান্ডোদের হাতে আটক হওয়ার পর মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়াকে প্রায় তিন মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনের একটি কারাগারে রাখা হয়েছে। সেখানে তাদের ইন্টারনেট বা সংবাদপত্র ব্যবহারের সুযোগ নেই বলে জানা গেছে।
মাদুরোর এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা একটি বার্তায় বলা হয়েছে, ‘আমরা ভালো আছি, অবিচল, শান্ত ও প্রতিনিয়ত প্রার্থনায় আছি।’ তবে তাদের পক্ষে কে এই পোস্টটি করেছেন তা স্পষ্ট নয়।
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘আমরা আপনাদের বার্তা, ইমেইল, চিঠি ও প্রার্থনা পেয়েছি। ভালোবাসার প্রতিটি শব্দ, স্নেহের প্রতিটি ইঙ্গিত এবং সমর্থনের প্রতিটি প্রকাশ আমাদের আত্মাকে পূর্ণ করে ও মানসিকভাবে শক্তিশালী করে।’
ভেনেজুয়েলা সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, মাদুরো বাইবেল পড়েন এবং ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারের (অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য পরিচিত একটি ফেডারেল জেল) অন্য বন্দিদের কেউ কেউ তাকে ‘প্রেসিডেন্ট’ বলে সম্বোধন করেন।
সূত্রটি আরও জানায়, তাকে শুধু তার পরিবার ও আইনজীবীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি কলের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১৫ মিনিট।
তার ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা, যিনি ‘নিকোলাসিটো’ নামে পরিচিত, জনসমক্ষে বলেছেন যে তার বাবা ভালো আছেন, শান্ত আছেন এবং এমনকি কারাগারে ব্যায়ামও করছেন।
মাদুরো নিজেকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে ঘোষণা করেছেন এবং গত ৫ জানুয়ারি নিউইয়র্কে আদালতে হাজির করার পর থেকে তিনি আর কোনো কথা বলেননি।
শনিবারের পোস্টে এই দম্পতি আরও যোগ করেন, ‘কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং ভেনেজুয়েলার ভেতরে ও বাইরে ভালোবাসা, সচেতনতা ও সংহতি প্রকাশের যে ক্ষমতা আমাদের জনগণের রয়েছে, তার জন্য আমরা গভীর প্রশংসা বোধ করছি।’
বৃহস্পতিবার এক ঘণ্টার শুনানি চলাকালীন, ভেনেজুয়েলা সরকারের সহায়তা ছাড়া মাদুরো এবং তার স্ত্রীর আইনি খরচ মেটাতে অক্ষমতা সংক্রান্ত বিবাদী পক্ষের একটি আবেদন বিচারক খারিজ করে দেন। আদালত চলাকালীন তাদের কেউ কোনো কথা বলেননি।
মাদুরো তার বিরুদ্ধে আনা মাদক-সন্ত্রাস ষড়যন্ত্র, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র, মেশিনগান ও ধ্বংসাত্মক সরঞ্জাম রাখা এবং সেগুলো রাখার ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগগুলোতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
জানুয়ারির অপহরণের মাধ্যমে ২০১৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বে থাকা মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন, যা তেলসমৃদ্ধ দেশটিকে অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করে।
২০১৮ সাল থেকে মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ডেলসি রদ্রিগেজ বর্তমানে দেশটির নেতৃত্বে আছেন। তিনি বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিপর্যস্ত অর্থনীতির একটি দেশকে পরিচালনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন।
মাদুরোকে অপহরণের পর থেকে রদ্রিগেজ একটি ঐতিহাসিক সাধারণ ক্ষমা আইন কার্যকর করেছেন, যার মাধ্যমে মাদুরোর আমলে বন্দি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভেনেজুয়েলার বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবির সঙ্গে সংগতি রেখে তিনি তেল ও খনি সংক্রান্ত আইন সংস্কার করেছেন।
চলতি মাসে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে যে তারা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করছে, যা দুই দেশের সম্পর্কের বরফ গলার ইঙ্গিত দেয়।

সূত্র: জিও নিউজ।