কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মিত ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষায় সফল

ডেস্ক রিপোর্ট
  ০৭ জুন ২০২৬, ১৪:২৯

মানবজাতি হিমশিম খাচ্ছে। তবে সফল হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ডিজাইন করা সর্বজনীন করোনাভাইরাসের  টিকা। মানবদেহের পরীক্ষায় তা সফল হয়েছে। এ ঘটনাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের এক যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এর আগে এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করে দৈনিক মানবজমিন। এবারের রিপোর্টে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছে এই  টিকা। সফলভাবে তা প্রথম মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। জার্নাল অব ইনফেকশনে প্রকাশিত পিয়ার-রিভিউড তথ্য অনুযায়ী, এই ফেজ-১ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৩৯ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক অংশ নেন।
ফলাফলে দেখা যায়, ভ্যাকসিনটির নিরাপত্তা প্রোফাইল ছিল ১০০ শতাংশ সফল। অর্থাৎ কোনো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছে বৃটেনের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাদের স্পিনআউট কোম্পানি ডাইওসজন ভ্যাক্স। গবেষকদের দাবি, এটি বিভিন্ন ধরনের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ইমিউন প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে সক্ষম। এই অগ্রগতি একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করছে। প্রচলিতভাবে ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী বারবার ভ্যাকসিন আপডেট করার বদলে এটি একটি একক টিকা। সর্বজনীন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হতে পারে এর মাধ্যমে।
এটি এমন একটি ভ্যাকসিন, যার সক্রিয় অংশ সম্পূর্ণভাবে কম্পিউটার সিমুলেশন এবং মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমের মাধ্যমে ডিজাইন করা হয়েছে। একে এ পর্যন্ত মানুষের ওপর পরীক্ষিত এ ধরনের প্রথম প্রযুক্তিনির্ভর ভ্যাকসিন হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। প্রচলিত ভ্যাকসিন সাধারণত ভাইরাসের নির্দিষ্ট অংশ (যেমন স্পাইক প্রোটিন) ব্যবহার করে ইমিউন সিস্টেমকে প্রশিক্ষণ দেয়। কিন্তু সমস্যা হলো- ভাইরাস দ্রুত পরিবর্তিত হলে এই লক্ষ্যবস্তু বদলে যায়, ফলে কার্যকারিতা কমে। এ সমস্যার সমাধানে কেমব্রিজের গবেষকরা হাজার হাজার করোনাভাইরাসের জেনেটিক ডাটা এআই মডেলে বিশ্লেষণ করান। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল, কোভিড-১৯ ভাইরাস, ২০০৩ সালের সার্স ভাইরাস, বিভিন্ন প্রাণিজনিত করোনাভাইরাস স্ট্রেইন। এআই সিস্টেম ভাইরাসগুলোর মধ্যে থাকা স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় জিনগত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে। এরপর এই সাধারণ কাঠামোগুলো একত্র করে তৈরি করা হয় একটি মাস্টার ব্লুপ্রিন্ট, যাকে গবেষকরা বলছেন এআই সুপার-অ্যান্টিজেন।
এই কৌশলের মাধ্যমে শরীরকে এমন অ্যান্টিবডি তৈরি করতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, যা ভাইরাসের মূল কাঠামোর বিরুদ্ধে কাজ করে। ফলে বাহ্যিক মিউটেশন হলেও সুরক্ষা বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ট্রায়ালে অংশগ্রহণকারীদের প্রচলিত সিরিঞ্জ ব্যবহার করে ইনজেকশন দেয়া হয়নি। পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে একটি বিশেষ ডিএনএ ভ্যাকসিন ডেলিভারি সিস্টেম, যা মাইক্রোফ্লুইডিক জেট প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করে। এই প্রযুক্তি অত্যন্ত উচ্চচাপের ক্ষুদ্র তরল প্রবাহ ব্যবহার করে ত্বকের ভেতর ভ্যাকসিন পৌঁছে দেয়। এতে ইনজেকশনের ব্যথা নেই, সূচ ফোবিয়া কমে, চিকিৎসা বর্জ্য ও সূচজনিত ঝুঁকি হ্রাস পায়।