বাংলাদেশকে পৌনে ৪ লাখ পোলিও টিকা দিলো চীনের সিনোভ্যাক

ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৩ মে ২০২৬, ১৩:০৮

বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ডোজ পোলিও টিকা দিয়েছে চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন।
বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) চলমান কার্যক্রমকে আরও বেশি গতিশীল ও কার্যকর করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে এসব টিকা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের হাতে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি সাওপোং ও সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডিরেক্টর লি নিং এ সংক্রান্ত কাগজপত্র হস্তান্তর করেন।
সিনোভ্যাকের অনুদানের ৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল (৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ) পোলিও টিকার চালান এরই মধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যেখান থেকে পরে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের প্রদান করা হবে।
সিনোভ্যাকের তৈরি পোলিও (পোলিওমাইলাইটিস ভ্যাকসিন, ভেরো সেল, ইনঅ্যাক্টিভেটেড সেভিন স্ট্রেইন-এসআইপিবি) টিকা ২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জন করে। বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিনোভ্যাক এরই মধ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় এই একই ভ্যাকসিন সফলভাবে সরবরাহ করে আসছে।
টিকা নিয়ে বাংলাদেশের এই দুঃসময়ে সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের টিকা অনুদানের জন্য চীনের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বন্ধু হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশে রয়েছে, সেটা আবারও প্রমাণ করেছে দেশটি।
মন্ত্রী বলেন, হামের টিকার ব্যবস্থা হলেও এখন সামনে ডেঙ্গু, পোলিও, হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙাচ্ছে। এগুলো মোকাবিলা করা এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে, পোলিও, যক্ষ্মাসহ যেসব রোগের টিকার প্রয়োজন তা ঘাটতি নেই। এগুলোর টিকা কার্যক্রম চলছে।
এখন পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত প্রায় সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। বাকি যারা আছে তাদের শিগগির টিকা দেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, শিগগির ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হবে।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর জন্য প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে।
সিনোভ্যাক বায়োটেকের চিফ বিজনেস ডিরেক্টর লি নিং বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করতে পেরে সিনোভ্যাক অত্যন্ত গর্বিত। আজ আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সিনোভ্যাকের তৈরি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জনকৃত ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮৪ ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
পোলিও শিশুদের জন্য একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ এবং টিকাদানকে পোলিও প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আশা করি, অনুদানের এই টিকা বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দেশের পোলিও নির্মূল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
লি নিং আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সিনোভ্যাক বাংলাদেশের পাশে থেকে চীন-বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অবদান রাখার সুযোগ করে দেওয়ায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও চীনা দূতাবাসকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকতা, চীনা দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হুয়াং মৌচং, সিনোভ্যাক বায়োটেকের হেড অব ইন্টারন্যাশনাল রেগুলেটরি ওয়াং পেং, সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অন্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।