বাংলাদেশে ২৫ বছরের রেকর্ড ভাঙলো হাম, বাড়ছে শঙ্কাও

টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার জন্যই বড় প্রাদুর্ভাব 
ডেস্ক রিপোর্ট
  ১৪ মে ২০২৬, ১২:২২

দেশে হাম ও এর উপসর্গের রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১৩ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত এবছর দেশে মোট ৫৩ হাজার ৫৬ জন হাম-সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ১৫০ জনের হাম নিশ্চিত করা হয়েছে।
একই সময়ে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৩ জনে। এর মধ্যে ৬৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত বলে শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাবগুলোর একটি। আক্রান্ত ও মৃতদের বেশিরভাগই শিশু হওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ মে সকাল পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৩ হাজার ৮৩২ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।
তথ্য বলছে, গত ২৫ বছরে বাংলাদেশে হামের আক্রান্ত সংখ্যা কখনও ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল ২০০৫ সালে। সে বছর আক্রান্ত হয়েছিল ২৫ হাজার ৯৩৪ জন। এরপর ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকে।

 আক্রান্তের সংখ্যা যখন ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে, তখন এটিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা উচিত ছিল। এমন ঘোষণা না থাকায় সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।


২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭ জন। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হয়েছিল মাত্র ১৩২ জন। তবে চলতি বছরের শুরুতেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যখন হাম নির্মূলের পথে এগোচ্ছিল, তখন টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে হঠাৎ বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, ‘আক্রান্তের সংখ্যা যখন ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে, তখন এটিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা উচিত ছিল। এমন ঘোষণা না থাকায় সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।’
ভাইরোলজিস্ট ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবা জামিল বলেন, চলতি বছরে অস্বাভাবিক হারে সংক্রমণ বেড়েছে। তবে টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ কমতে শুরু করতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে ৫০ হাজারের বেশি হাম আক্রান্তের ঘটনা রিপোর্ট করা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এখন পঞ্চম। এর আগে ভারত, ইউক্রেন, মাদাগাস্কার ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে এমন বড় প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন