‘দানবীয়’ হাঁড়িতে বেকড বিনস রান্না

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:০৮

সকালের নাশতায় টোস্টের সঙ্গে এক বাটি গরম গরম ‘বেকড বিনস’ বা সেদ্ধ শিম অনেকেরই প্রিয়। বিশেষ করে ইউরোপ ও আশপাশের দেশগুলোতে। সেই প্রিয় খাবারই যদি রান্না করা হয় দানবীয় এক হাঁড়িতে, তবে তা শুধু পেটই ভরায় না, গড়া যায় নতুন বিশ্ব রেকর্ডও।
ঠিক এমন একটি ঘটনা ঘটিয়ে তুরস্কের কেলকিট শহর বিশ্ব রেকর্ডে নিজেদের নাম লিখিয়েছে। সেখানে দৈত্যাকার একটি হাঁড়িতে একবারে রান্না হয়েছে ১ হাজার ৮০৭ গ্যালন বেকড বিনস, যা প্রায় ১৫ হাজার ক্যানের সমপরিমাণ।
রেকর্ড গড়া এ ঘটনা গত ২২ আগস্টের। কেলকিট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, গুমুশানে গভর্নরশিপ ও কেলকিট পৌরসভার যৌথ উদ্যোগে বিশাল একটি হাঁড়িতে এ রান্নার আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনে মূলত রান্না করা হয়েছিল স্থানীয় বিশেষ পদ ‘কেলকিট শেকের ফাসুলিয়েসি’। এটি শিমের বীজ দিয়ে তৈরি একটি চমৎকার স্বাদের খাবার।
তবে রেকর্ডটি দখল করা সহজ ছিল না। আগের রেকর্ডধারী উত্তর মেসিডোনিয়ার বাসিন্দারা সারসিয়েভো গ্রামের ক্ষুধার্ত দর্শকদের জন্য প্রায় ১ হাজার ৪৭৯ গ্যালন ‘বেকড বিনস’ রান্না করেছিলেন।
মেসিডোনিয়ার এ রেকর্ড ভাঙার উদ্যোগ নেওয়ার আগে, কেলকিটের কর্মকর্তারা এমন একটি উপায় খুঁজছিলেন, যাতে তাঁদের উৎপাদিত বিন বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরা যায়। সামান্য বেগুনি দাগযুক্ত কিছুটা বাঁকানো আকৃতির এ বিন কেলকিট সমভূমিতে চাষ করা হয়। স্থানীয় এ পণ্যের প্রচার ও অর্থনৈতিক মূল্য বাড়ানোর পাশাপাশি ‘কৃষকদের সম্মান জানাতেই’ নেওয়া হয়েছিল এ উদ্যোগ।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসকে আয়োজকেরা বলেন, ‘এ শিরোপা কেলকিট, গুমুশানে ও আমাদের অঞ্চলের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন। এটি আমাদের কৃষি ঐতিহ্য, স্থানীয় পণ্য ও আমাদের পুরো সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাওয়া আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি গর্বের উৎস হয়ে থাকবে।’
উৎসবমুখর এ অর্জনের কৃতিত্ব পুরো এলাকার মানুষকে দিয়েছেন আয়োজকেরা। তাঁরা বলেন, ‘এ রেকর্ডের পেছনে যে দলগত প্রচেষ্টা, সেটিই আমাদের সবচেয়ে বেশি গর্বিত করে। কৃষক, রন্ধনকর্মী, প্রকৌশলী, খাদ্যনিরাপত্তা–বিশেষজ্ঞ, পৃষ্ঠপোষক, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবক—সবাই এ অর্জনে অবদান রেখেছেন।’