কুয়েতে প্রবাসীদের জন্য দূতাবাসের জরুরি বিজ্ঞপ্তি

ডেস্ক রিপোর্ট
  ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৫

কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের সুরক্ষায় এবং দেশটিতে ক্রমবর্ধমান আইনি জটিলতা নিরসনে একটি সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি পুনরায় সামনে এনেছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
সাম্প্রতিক সময়ে কর্মীদের আইনি জটিলতা, মাদক ও ভিসা সংক্রান্ত অপরাধ এবং ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
দূতাবাসের শ্রম মিনিস্টার মোহাম্মদ আবুল হোসেন স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিটি গত বছরের ২৭ অগাস্ট প্রথম প্রকাশিত হয়। তবে প্রবাসীদের মধ্যে সচেতনতা ‘আশানুরূপ না হওয়ায়’ রোববার দূতাবাসে সাংবাদিকদের সঙ্গে সভায় বিষয়টি পুনরায় তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন।
দূতাবাসের নির্দেশনায় কুয়েত শ্রম আইন ২০১০-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়, কোনো কর্মীর বেতন বকেয়া থাকলে বা কর্মস্থলে সমস্যা দেখা দিলে কর্মীকে অবশ্যই নিয়মতান্ত্রিকভাবে ‘পাবলিক অথরিটি ফর ম্যানপাওয়ার’ অথবা ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ডমেস্টিক লেবার’-এ লিখিত অভিযোগ করতে হবে।
রাষ্ট্রদূত সৈয়দ তারেক হোসেন বলেন, “পাওনা আদায়ের জন্য কোনোভাবেই কর্মক্ষেত্রে ধর্মঘট, দলগত কর্মবিরতি বা অনুমতি ছাড়া কাজে অনুপস্থিত থাকা যাবে না। কুয়েতি আইনে এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এর ফলে কর্মীর আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হয়ে যায়।”
বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে যে, টানা সাত দিন কাজে অনুপস্থিত থাকলে কর্মীর বিরুদ্ধে ‘অ্যাবসকন্ডিং’ বা পলায়নের মামলা হতে পারে। এতে আকামা বাতিলসহ স্থায়ীভাবে বাংলাদেশে প্রত্যাবাসনের (ডিপোর্ট) ঝুঁকি থাকে। এছাড়া নিজের ইকামায় উল্লিখিত কর্মস্থলের বাইরে অন্য কোথাও কাজ করা সম্পূর্ণ অবৈধ।
রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “অনেক নতুন কর্মী বেশি আয়ের লোভে এই ঝুঁকি নিচ্ছেন। কিন্তু পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তারা কেবল জেলেই যাচ্ছেন না, বরং কুয়েতে তাদের প্রবেশের পথ আজীবনের জন্য বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।”
ভিসা সংক্রান্ত লেনদেনে হুঁশিয়ারি দিয়ে দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশ সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ১ লাখ ৬ হাজার ৭৮০ টাকার অতিরিক্ত অর্থ লেনদেন করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “এক শ্রেণির অসাধু ব্যক্তির মাধ্যমে ভিসা ক্রয়-বিক্রয়ের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা অভিবাসন ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সাধারণ কর্মীদের চরম সংকটে ফেলছে। নিয়োগ চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে প্রবাসীদের অবশ্যই বেতন-ভাতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিজের কাছে রাখতে হবে।”
রাস্তা থেকে পরিত্যক্ত মালামাল সংগ্রহ করা বা ভিক্ষাবৃত্তির মতো কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন যেমন- বৈধ লাইসেন্স রাখা, সিগন্যাল মেনে চলা এবং গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল ব্যবহার না করার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে এটিএম কার্ড জালিয়াতি ও সাইবার অপরাধে প্রবাসীদের জড়িয়ে পড়ার বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, “প্রযুক্তিগত অপরাধে জড়িয়ে পড়া কেবল ব্যক্তির জন্য নয়, বরং দেশের ভাবমূর্তির জন্য লজ্জাজনক। এ বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”
কুয়েত কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক বাংলাদেশি বন্দিদের অধিকাংশেরই মাদক সংক্রান্ত অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন প্রবাসীদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সামান্য লাভের আশায় নিজের জীবন এবং দেশের মর্যাদা ধ্বংস করবেন না। মাদক পরিবহন বা বিক্রয় থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। আপনাদের সুন্দর ও সুশৃঙ্খল প্রবাস জীবনই আমাদের কাম্য।”