
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত আওয়ামী লী আমলে রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বাকি মামলাগুলো প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আলী আছগারের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এসব তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী বলেন, মামলা দায়েরের সময় এজাহারে অভিযুক্তের দলীয় পরিচয় উল্লেখ না থাকায় সারাদেশে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান নিরূপণ করা সম্ভব নয় এবং এ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে। জামায়াতের ক্ষেত্রে এ সংক্রান্ত পৃথক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০২৬ সালের ৫ মার্চ রাজনৈতিক কারণে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশের জন্য জেলা পর্যায়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। এসব কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্র, এজাহার, চার্জশিট ও পাবলিক প্রসিকিউটরের মতামত পর্যালোচনা করে মামলা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক কিনা এবং জনস্বার্থে তা চালানোর প্রয়োজন আছে কি না—তা যাচাই করে সুপারিশ করে থাকে।
পরে এসব সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মামলা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অবশিষ্ট মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।