
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রথম পরিচয় কীভাবে হয়েছিল, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন মেলানিয়ার এক সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত যে গল্পটি বলা হয়ে আসছে, বাস্তবে ঘটনাটি ছিল ভিন্ন।
সোমবার (১ জুন) সাবেক ব্রাজিলীয় মডেল আমান্দা উঙ্গারো সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি অডিও বার্তায় দাবি করেন, কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের মাধ্যমেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেলানিয়ার পরিচয় হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
বহু বছর ধরে মডেলিং জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব পাওলো জাম্পোল্লি দাবি করে আসছেন, ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কের একটি পার্টিতে তিনিই ট্রাম্প ও মেলানিয়ার পরিচয় করিয়ে দেন। কিন্তু উঙ্গারোর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত ঘটনা ছিল ভিন্ন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডিংয়ে উঙ্গারোকে বলতে শোনা যায়, জাম্পোল্লি নিজেই একাধিকবার তাঁকে জানিয়েছেন যে ট্রাম্প ও মেলানিয়ার পরিচয়ের পেছনে এপস্টেইনের ভূমিকা ছিল। যদিও এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউস বা মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয় কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পাওলো জাম্পোল্লি অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ফার্স্ট লেডিকে নিয়ে এমন বক্তব্য অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মানহানিকর।
বর্তমানে জাম্পোল্লি মার্কিন প্রশাসনের একটি কূটনৈতিক দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
উল্লেখ্য, আমান্দা উঙ্গারো ও জাম্পোল্লির মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে ব্যক্তিগত ও আইনি বিরোধ চলছে। সন্তান হেফাজত সংক্রান্ত একটি মামলাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উঙ্গারোর সাম্প্রতিক অভিযোগকে ঘিরে নানা প্রশ্নও উঠেছে।
এদিকে চলতি বছরের এপ্রিলে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে মেলানিয়া ট্রাম্প সরাসরি অস্বীকার করেন যে জেফরি এপস্টেইনের মাধ্যমে তাঁর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিচয় হয়েছিল। তিনি বলেন, ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কের এক অনুষ্ঠানে আকস্মিকভাবেই ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মেলানিয়া আরও দাবি করেন, ২০০০ সালের আগে তিনি এপস্টেইনের সঙ্গে কখনো সাক্ষাৎ করেননি এবং তাঁর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও কিছু জানতেন না।
তবে মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত কিছু নথিতে এপস্টেইনের এক সাবেক সহযোগীর বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে এপস্টেইন ট্রাম্প ও মেলানিয়ার পরিচয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। যদিও এ দাবির সত্যতা নিয়ে এখনো বিতর্ক রয়েছে।
এদিকে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিংটি প্রথম প্রকাশ করা সাংবাদিক অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুস জানিয়েছেন, তিনি কেবল তথ্যটি প্রকাশ করেছেন। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হলেও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে জাম্পোল্লির দাবি, ভাইরাল হওয়া অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি হতে পারে। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন অ্যান্ড্রুস। তাঁর বক্তব্য, অডিওটি আসল এবং এর সত্যতা নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী।
ঘটনাটি নতুন করে এপস্টেইন–সম্পর্কিত বিতর্ককে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। তবে উঙ্গারোর অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
সূত্র: দ্য ডেইলি বিস্ট