
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হবে বলে আশা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার তার অবস্থানকে অধিকাংশ মানুষই সমর্থন করছে।
এরই মধ্যে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধ-সমাপ্তির প্রস্তাব এখনও তারা পর্যালোচনা করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যা ভবিষ্যৎ পারমাণবিক আলোচনার ভিত্তি হতে পারে।
প্রস্তাবিত এই কাঠামোয় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত করা, তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার মতো বিষয় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বুধবার ট্রাম্প এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের সঙ্গে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং একটি সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ‘আরও তীব্র’ হতে পারে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যদিও তেহরান এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেনি।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই ইরান কার্যত প্রণালিটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাদের ‘পূর্ণ সমন্বয়’ রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে দেওয়া এবং তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ভেঙে ফেলা।
যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এখনও কমেনি। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।