
নিউইয়র্কে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসি) এজেন্টরা একজন নাইজেরিয়ান নাগরিককে গ্রেপ্তারের সময় বারবার টেজার দিয়ে আঘাত করেছেন এবং জোরপূর্বক তাকে গাড়ি থেকে টেনে বের করার চেষ্টা করেছেন। পুরো ঘটনাটি পথচারীদের ধারণ করা একটি ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা গেছে, যা নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সিটি প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একজন মুখোশধারী এজেন্ট সাদা একটি গাড়ির চালকের আসনে বসে থাকা ব্যক্তিটির দিকে টেজার ছোড়েন। যন্ত্রণায় চিৎকার করতে করতে লোকটি বারবার একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার আবেদন জানান এবং আশেপাশের প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে সাহায্য চান। এক পর্যায়ে একজন এজেন্ট ছুরি দিয়ে তার সিটবেল্ট কেটে ফেলেন। "কেউ আমাকে সাহায্য করুন," লোকটি চিৎকার করে বলতে থাকেন, "ওরা আমাকে মেরে ফেলছে।"
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম চিদোজি উইলসন ওকেকে, যিনি একজন নাইজেরিয়ান নাগরিক। তার বিরুদ্ধে হামলা ও মাদক সংক্রান্ত আগের গ্রেপ্তারের রেকর্ড রয়েছে এবং তিনি পর্যটক ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও দেশে থেকে যাচ্ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। মুখপাত্র আরও দাবি করেন, চিদোজি আইস কর্মকর্তাদের ঘুষি ও কনুই দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন এবং গাড়ি দিয়ে তাদের ধাক্কা মারার চেষ্টা করেছিলেন। "আমাদের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ অনুযায়ী গ্রেপ্তার কার্যকর করতে ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করেছেন," বলে জানান ওই মুখপাত্র।
গ্রেপ্তারের পর চিদোজিকে চিকিৎসার জন্য শনিবার রাতে ওয়াইকফ হাইটস মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইসিই-র উপস্থিতির খবর পেয়ে বিক্ষোভকারীরা দ্রুত হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে থাকেন। এজেন্টরা বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীর উপর পেপার স্প্রে ছোড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। ভোররাত ২টার দিকে আইসিই এজেন্টরা হাতকড়া পরা চিদোজিকে হাসপাতাল থেকে টেনে বের করে একটি গাড়িতে তুলে দেন, যখন এনওয়াইপিডি কর্মকর্তারা উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে রাখছিলেন। রাত জুড়ে চলা এই ঘটনায় পুলিশ মোট নয়জনকে গ্রেপ্তার করে, যাদের মধ্যে আটজনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও সরকারি কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলেন, এনওয়াইপিডি আইসি অভিযানে অংশ নিতে বা সহায়তা করতে হাসপাতালে যায়নি, বরং বিক্ষোভ সংক্রান্ত ৯১১ কলের জবাবে তারা সেখানে গিয়েছিল। তিনি বলেন, "আমাদের আইনে অভিবাসন বিষয়ক দেওয়ানি মামলায় এনওয়াইপিডির অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।" মামদানি আইস অভিযানকে "নিষ্ঠুর ও অমানবিক" বলে আখ্যায়িত করেন। এদিকে, নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট মুরাদ আওয়াদেহ এই সহিংস গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "আইসি তাদের হিংসাত্মক ও বেআইনি কৌশলের মাধ্যমে নিউইয়র্কবাসীকে হাসপাতালে পাঠাচ্ছে। আর ডিএইচএস জনগণকে সন্ত্রস্ত করা, নির্যাতন করা এবং হত্যা করাকে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণ করতে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।" তিনি গোটা ঘটনায় এনওয়াইপিডির ভূমিকা নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।