
আমেরিকায় আসার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশিসহ ভিসা ব্যানের আওতায় আসা ল্পকজনের জন্য এসেছে এক বড় স্বস্তির খবর। ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন আবেদন স্থগিতের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে তার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই নীতির কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন বাংলাদেশসহ বেশকিছু দেশের নাগরিকরা।
গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে ট্রাভেল ব্যানের তালিকা ১৯টি দেশ থেকে বাড়িয়ে ৩৯টি দেশে উন্নীত করা হয়। এই নীতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। বাংলাদেশ এই বিস্তৃত তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়, যেখানে মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ, কৃষ্ণাঙ্গ-সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো রয়েছে।
বাংলাদেশ মূলত "আংশিক নিষেধাজ্ঞা" বিভাগে পড়েছে, যেখানে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছে। তবে পর্যটন, শিক্ষার্থী ও কাজের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। এর পাশাপাশি ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া আরও একটি আলাদা ভিসা স্থগিতাদেশে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে ৭৫টি দেশের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়াকরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে যে তালিকাভুক্ত দেশগুলো নিরাপত্তা যাচাই ও তথ্য আদান-প্রদানে গুরুতর ঘাটতি রাখে। লক্ষ্য হলো সেইসব বিদেশি নাগরিকদের ঠেকানো যারা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আইনজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসন কখনোই সামগ্রিক ভিসা নিষেধাজ্ঞার সাথে জাতীয় নিরাপত্তার কোনো স্পষ্ট যোগসূত্র প্রমাণ করতে পারেনি।
ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক জুলিয়া কোবিক — যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মনোনীত — রায় দেন যে এই নীতি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের জাতীয়তা-ভিত্তিক বৈষম্যবিরোধী বিধান লঙ্ঘন করেছে। তিনি জানান, আশ্রয় ও নাগরিকত্বের আবেদন স্থগিত রাখা কংগ্রেসের সরাসরি আদেশের বিরুদ্ধে, কারণ কংগ্রেস নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
মামলাটি দায়ের করেছিলেন ২০০-রও বেশি বাদী, যাদের বিভিন্ন অভিবাসন আবেদন আটকে গিয়েছিল। ট্রাম্পের বিভিন্ন নির্বাহী আদেশের ফলে এই মানুষগুলো গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব, আশ্রয় এবং কাজের অনুমতির জন্য অনিশ্চিত অপেক্ষায় ছিলেন।
বিচারক তার রায়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন — ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন অপরাধকে কারণ দেখিয়ে হাজার হাজার মানুষের আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। তিনি আরও বলেন, USCIS তদন্তের নামে চিরকালের জন্য আবেদন ঝুলিয়ে রাখার কোনো আইনি অধিকার রাখে না।
এই রায় বাংলাদেশসহ তালিকাভুক্ত দেশগুলোর সেইসব মানুষের জন্য সরাসরি স্বস্তির বার্তা দেয়, যারা যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্ব, আশ্রয় বা কাজের অনুমতির জন্য আবেদন করেছিলেন এবং মাসের পর মাস কোনো সাড়া পাচ্ছিলেন না। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে ট্রাম্প প্রশাসন এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করতে পারে। ট্রাম্পের এই ব্যানে কোনো জরুরি মানবিক পরিস্থিতির জন্য ওয়েভার প্রক্রিয়া রাখা হয়নি, যা পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে কষ্টকর ছিল। আদালতের এই রায় সেই কঠোর বাস্তবতায় কিছুটা আইনি সুরক্ষার দরজা খুলে দিল।