
সৌর ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুক্রবার (২০ মার্চ) ‘ভার্নাল ইকুইনক্স’ বা বসন্তকালীন বিষুব অতিক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে উত্তর গোলার্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বসন্তের আগমন ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য কানেকটিকাটের কনকনে শীত শেষে এখন সময় এসেছে গত কয়েক মাসের আবহাওয়ার খতিয়ান দেখার এবং এতে জলবায়ু পরিবর্তনের কোনো ভূমিকা ছিল কিনা- তা খতিয়ে দেখার।
এবারের শীতকাল কানেকটিকাটবাসীকে বেশ ভালোই হিমশিম খাইয়েছে। অঙ্গরাজ্যটির রাজধানী হার্টফোর্ড এলাকার গড় তাপমাত্রা এবং তুষারপাতের পরিসংখ্যান বলছে, এবারের শীতে এখানে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৭.৯° ফারেনহাইট (গত বছর যা ছিল ৩২.৬°)। এটি ২০১৫ সালের পর এই অঞ্চলের শীতলতম শীত।
অন্যদিকে গত ২৩ মার্চ পর্যন্ত হার্টফোর্ডে ৫২.৭ ইঞ্চি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা ২০১৭ সালের পর সর্বোচ্চ। গত বছর এই সময়ে তুষারপাতের পরিমাণ ছিল মাত্র ২১.৭ ইঞ্চি।
এ প্রসঙ্গে অলাভজনক সংস্থা ‘ক্লাইমেট সেন্ট্রাল’-এর বিজ্ঞান বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. ক্রিস্টিনা ডাহল জানান, ‘আপনার যদি মনে হয়ে থাকে এবার খুব বেশি শীত পড়েছে, তবে আপনার ধারণা একদম সঠিক।’
জলবায়ু পরিবর্তন ও শীতের বৈপরীত্য
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটে বসন্ত, গ্রীষ্ম বা শরতের তুলনায় শীতকাল সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে। ১৯৭০ সালের তুলনায় এখানকার শীতকালীন গড় তাপমাত্রা প্রায় ৫ ডিগ্রি বেড়ে গেছে। তবে ড. ডাহল ব্যাখ্যা করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে আর কখনো তীব্র শীত পড়বে না। তবে ভবিষ্যতে এমন হাড়কাঁপানো শীত বা ভারী তুষারপাতের সম্ভাবনা ক্রমশ কমে আসছে।
এবারের শীতে কয়েক দফা তীব্র ‘আর্কটিক এয়ার’ বা মেরু অঞ্চলের শীতল বাতাস এই অঞ্চলে আছড়ে পড়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে জেট স্ট্রিম-এর অস্থির আচরণ দায়ী হতে পারে।
উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জেট স্ট্রিম আঁকাবাঁকা বা অনিয়মিত হয়ে পড়ছে, যা কখনো মেরু অঞ্চলের তীব্র ঠান্ডা বাতাসকে নিচে নামিয়ে আনছে, আবার কখনো অস্বাভাবিক উষ্ণতা বয়ে আনছে।
তবে ড. ডাহল জানান, এই তত্ত্বটি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো বিতর্ক আছে। অনেকে একে দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা বা জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব বলতে নারাজ।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঞ্চলের চিত্র
কানেকটিকাট বা পূর্ব উপকূলে যখন ‘দশ বছরে একবার’ আসার মতো শীত অনুভূত হয়েছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। পশ্চিমের অনেক শহরে এবার রেকর্ড পরিমাণ উষ্ণতা দেখা গেছে, যেখানে শীতের আমেজ ছিল না বললেই চলে।
শীতের ভবিষ্যৎ
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের গ্রহ যত উষ্ণ হচ্ছে, মেরু অঞ্চল থেকে আসা শীতল বাতাসের প্রবাহ আগের মতো (বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের মতো) অতটা তীব্র থাকছে না। তুষারপাতের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝড়গুলো বেশি আর্দ্র হয়ে উঠছে, যার ফলে দু-তিনটি বড় ঝড়েই এবার মৌসুমি গড় তুষারপাতের চেয়ে বেশি তুষারপাত হয়েছে।
সূত্র: এনবিসি কানেকটিকাট