
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে বলেছেন, তিনি কূটনৈতিকভাবে তেহরানের সঙ্গে মতবিরোধের সমাধান করতে পছন্দ করবেন। তবে তিনি ইরানের ওপর হামলাও চালাতে পারেন। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারে– ইরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে জেনেভায় দুই পক্ষের পরোক্ষ আলোচনা ফের শুরুর আগের দিন গতকাল বুধবার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান সরকার।
গত মঙ্গলবার সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের যৌথ অধিবেশনে বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। ইরান এসব অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, তারা গত বছর মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্নির্মাণের জন্য কাজ করছে। ট্রাম্প বারবার বলে আসছেন, তাদের হামলায় এসব স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের দাবি, এমনটা ঘটেনি।
ট্রাম্প বক্তৃতার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা একটি চুক্তি করতে চায়।’ ট্রাম্প বলেন, কূটনীতির মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করাটা তাঁর পছন্দ। তবে এটাও নিশ্চিত– তিনি ‘সন্ত্রাসের এক নম্বর পৃষ্ঠপোষক’কে পারমাণবিক অস্ত্র ধারণ করতে দেবেন না। তিনি বলেন, ‘এটা হতে দিতে পারি না।’ ট্রাম্প দাবি করেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলার পর তাদের সতর্ক করা হয়েছিল যে, ভবিষ্যতে তাদের অস্ত্র কর্মসূচি বিশেষ করে পারমাণবিক অস্ত্র পুনর্নির্মাণের কোনো প্রচেষ্টা না করার জন্য। তবুও তারা তা চালিয়ে যাচ্ছে।
আলজাজিরা ও এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান বছরের পর বছর ধরে জোর দিয়ে বলে আসছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক উদ্দেশ্যে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বা জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা– কেউই গত বছর এমন কোনো প্রমাণ পায়নি যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি ফের শুরুর অভিযোগের পাশাপাশি, ট্রাম্প দাবি করেন– তেহরান এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য কাজ করছে, যা ‘শিগগিরই’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম হবে; ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, তেহরান উত্তর আমেরিকায় পৌঁছাতে সক্ষম একটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে। তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশ থেকে বোমা হামলা হয়। এগুলোর জন্য ইরান দায়ী। এসব হামলায় বহু মার্কিন সেনা সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হন।
সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার জন্য ট্রাম্প তেহরানের সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ ৩২ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। ট্রাম্প বলেন, ‘(ইরানি) সরকার ও তার খুনি প্রতিনিধিরা সন্ত্রাসবাদ, মৃত্যু ও ঘৃণা ছাড়া আর কিছুই ছড়িয়ে দেয়নি।’
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়া
গতকাল বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বড় মিথ্যাচার’ বলে বর্ণনা করেছেন। এক্স পোস্টে তিনি লিখেন, ‘পেশাদার মিথ্যাবাদীরা সত্যের মায়া তৈরিতে পারদর্শী।’ তিনি বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জানুয়ারির অস্থিরতার সময় হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে তারা যা কিছু অভিযোগ করেছে, তা কেবল বড় মিথ্যার পুনরাবৃত্তি। অসত্য দিয়ে কাউকে বোকা বানানো উচিত নয়।’
আজ ফের আলোচনা
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ও আজ বৃহস্পতিবার তৃতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনার আগে উত্তেজনা নিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্য এসেছে। ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য এ আলোচনায় ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার উপস্থিত থাকবেন।